নাছিমা খাতুন সুলতানা:
নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামে এক কৃষকের সাফ কাওলা (নিজস্ব মালিকানাধীন) জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জালশুকা গ্রামের মৃত মোঃ হাসান আলীর ছেলে মোঃ হারুন মিয়া তার নিজস্ব সাফ কাওলা চাষাবাদকৃত জমিতে সম্প্রতি প্রবেশ করলে, একই গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা বেআইনিভাবে জমি বেদখলের চেষ্টা চালায়।
ঘটনাটি ঘটে গত ২২ আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখে। ওই দিন হারুন মিয়া তার নিজ জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলাম ও তার লোকজন তাকে আক্রমণের জন্য চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে। স্থানীয়রা জানায়, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়, ফলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মোঃ হারুন মিয়া প্রতিপক্ষ মোঃ নজরুল ইসলামসহ চারজনকে আসামি করে আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পর থানার দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে শুনানি করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলাম থানার ডাকে সাড়া দেননি এবং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী হারুন মিয়া জানান, তার ক্রয়কৃত জমিটি খতিয়ান নং ১৬৭, দাগ নং ১২৪, শ্রেণী– কান্দা, জমির পরিমাণ ২৯ শতাংশ। তিনি বৈধ মালিকানা সনদপত্রসহ জমিটি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। বর্তমানে প্রতিপক্ষের হুমকির কারণে জমিটি অনাবাদী অবস্থায় পড়ে আছে।
হারুন মিয়া ও তার পরিবার বলেন,
“আমরা জমির বৈধ মালিক। তবুও প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ভীতির মধ্যে আছি। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় প্রভাবশালী একটি মহল ভূমি দখলের মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি করে আসছে।
ভুক্তভোগী হারুন মিয়া প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য বিচার কামনা করেছেন। তিনি বিশেষ করে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপার এর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন, যাতে সন্ত্রাসী চক্রের হাত থেকে তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং জমির দখল ফিরে পান।
এ বিষয়ে আটপাড়া থানার ওসি বলেন,
“লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জমি নিয়ে এমন দখলবাজির প্রবণতা বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে সাধারণ কৃষকরা তাদের বৈধ সম্পত্তি ও জীবিকার নিরাপত্তা পান।