আনোয়ারা থানায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী সোহেল গ্রেপ্তার

কামরুল ইসলাম:

আনোয়ারায় সরকারি উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবি ও শ্রমিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগে দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মো. সোহেল ওরফে ট্যাটু সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ছিনতাইসহ অন্তত ১০টির বেশি চাঞ্চল্যকর মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের নিজ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো. সোহেল (২৮) পূর্ব মহতরপাড়া এলাকার রবিউল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় চাতরী ইউনিয়নের কেয়াগড় এলাকায় একটি সুইচগেট নির্মাণকাজ চলছিল। প্রকল্পটির সাব-ঠিকাদার মো. শাহিন খান (৪০) অভিযোগ করেন, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই ট্যাটু সোহেল ও তাঁর সহযোগীরা নিয়মিত ঘটনাস্থলে গিয়ে ২৫ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

গত ৫ জানুয়ারি সোহেল ও তাঁর সহযোগীরা নির্মাণস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় লোহার রড ও লাঠি দিয়ে শ্রমিকদের মারধর করা হয়, এতে কয়েকজন শ্রমিক রক্তাক্ত হন। নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে–ছিটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা হয়। একই সঙ্গে চাঁদা না দিলে ঠিকাদারকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাটি গণমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার পর সোহেল আত্মগোপনে চলে যান। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায়, আনোয়ারা সার্কেলের তত্ত্বাবধানে এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ঘটনার পর ঠিকাদার মো. শাহিন খান বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি নির্মাণস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের মারধর, নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় লোহার রড ও লাঠি দিয়ে শ্রমিকদের রক্তাক্ত জখম করা হয়। পাশাপাশি ২৫ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল চাঁদা হিসেবে দাবি করে, তা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি ঠিকাদারকে হত্যা করে লাশ নির্মাণস্থলে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন,

‘গ্রেপ্তার সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *