আব্দুর রশিদ:
আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে সরকারি ফিতরার চাল ও শীতবস্ত্র আত্মসাৎ, বণ্টনে অনিয়ম এবং প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে খাজরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন বুলু সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ফিতরার চাল ও শীতকালীন কম্বল চেয়ারম্যান বাচ্চু গোপনে মজুত রেখে আত্মসাতের চেষ্টা করেন। গত ৩০ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তার চেউটিয়া ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে ৭ বস্তা ফিতরার চাল এবং একটি বড় বস্তা ভর্তি কম্বল ও শীতবস্ত্র উদ্ধার করে।
এলাকাবাসীর দাবি, পবিত্র ঈদুল ফিতর অতিবাহিত হওয়ার দীর্ঘ সময় পরও গরিবের জন্য বরাদ্দ চাল বিতরণ না করে তা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এমনকি শীত মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও কম্বল বিতরণ না করায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাল ও কম্বল দেওয়ার আশ্বাসে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করা হলেও বাস্তবে কোনো সহায়তা প্রদান করা হয়নি। বিষয়টি এলাকাজুড়ে ব্যাপক অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
এছাড়াও অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের হয়রানি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং এলাকাজুড়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরির অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি নিজের অবস্থান পাল্টে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদ্ঘাটন করা জরুরি। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত একজন নিরপেক্ষ প্রশাসকের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা এবং উদ্ধারকৃত সরকারি মালামাল প্রকৃত দুস্থদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।