ইকুরিয়া বিআরটিএ কেন্দ্রের সরকারি তহবিল ও যানবাহন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় চরম দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রের মোটরযান পরিদর্শক নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী দালাল আব্বাস মিলে নানা অঙ্গনে লুটপাট চালাচ্ছেন। এদের কার্যকলাপের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যানচালকরা অভিযোগ করেছেন যে, নজরুল ইসলাম নিজ দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে ইকুরিয়া বিআরটিএর কাগজপত্র ও ফি সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্বেচ্ছাচারী মনোভাব দেখাচ্ছেন। তিনি প্রায়ই নথি যাচাই ছাড়াই, কিংবা কিছু “সুবিধার” বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। এই লেনদেনের পুরো প্রক্রিয়ায় তার সহযোগী আব্বাস প্রায়শই “দলিল-সাপোর্ট” হিসেবে কাজ করে, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করা হয় তার কাছে অতিরিক্ত অর্থ দিতে।
স্থানীয়রা জানান, নজরুল ও আব্বাসের এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরে চলছেও। কেউ কণ্ঠ তোলে, কেউই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। তবে, বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও চালকরা অভিযোগ করেছেন যে, কেউ যদি তাদের “সেবা” গ্রহণ না করে, তারা তখনই তাদের নাম ব্ল্যাকলিস্টে তুলে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।
এক স্থানীয় চালক জানান, “আমি আমার ছোট ট্রাকের জন্য নিবন্ধনের জন্য বিআরটিএ অফিসে গিয়েছিলাম। নজরুল ও আব্বাস আমার কাছ থেকে অযথা বেশি টাকা চেয়েছিলেন। আমি না দিলে তারা নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করল, অফিসের কাজ থমকে দিল।”
অন্য একজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, “নজরুল একাই অফিসের পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করছে। তার দালাল আব্বাস প্রতিনিয়ত বাইরে ঘুরে মানুষের কাছে চাপ তৈরি করছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে একমাত্র উপায় হলো ঘুষ দেওয়া। তা না দিলে কাজ হতে দিচ্ছে না।”
এ বিষয়ে ইকুরিয়া বিআরটিএর কর্মকর্তা মেসেজে প্রতিক্রিয়া দিতে অস্বীকার করেছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ পৌঁছেছে। কিছু স্বেচ্ছাসেবক ও সাংবাদিক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি এই দুর্নীতি বন্ধ না করা হয়, তবে ইকুরিয়া অঞ্চলে বিআরটিএর কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, নজরুল ও আব্বাসের এই কার্যকলাপ শুধুমাত্র অর্থলুটের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের জীবনে দৈনন্দিন যাতায়াত ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। তারা সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের দুর্নীতি রোধে নিয়মিত অডিট, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক নজরদারি জরুরি। তাদের মতে, দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে, সাধারণ মানুষের অধিকার-সুরক্ষা হুমকির মুখে পড়বে।
ইকুরিয়া বিআরটিএতে নজরুল ইসলাম ও দালাল আব্বাসের বিরুদ্ধে অভিযানের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সমাজের মধ্যে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, সরকারি তত্ত্বাবধায়করা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লুটপাট বন্ধ হবে।
এটি ইকুরিয়া এলাকার জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও সেবা নিশ্চিত করা না হলে, দুর্নীতি ও দালাল চক্র আরও বেড়ে যাবে।