মোশারফ হোসেন জসিম পাঠান:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় লিচু বিক্রির টাকা আনতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হামলায় এক বৃদ্ধ কৃষকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলার পর লাশ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত, পাশাপাশি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে।
নিহত কৃষকের নাম আব্দুল ছোবহান (৭৫)। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর সোহাগী ইউনিয়নের দরিবৃ গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মে ২০২৫ ইং, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে আব্দুল ছোবহান লিচু বিক্রির পাওনা টাকা আনতে একই গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. রঙ্গু মিয়ার বাড়ির দিকে যান। এ সময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছোবহানকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাড়ির পেছনের একটি জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় ছোবহান বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত রঙ্গু মিয়ার স্ত্রী মোছা. অজুদা বেগম ও পাশের ঘরের মো. অঞ্জু মিয়া লোকজন ডেকে জানান, জঙ্গলের ভেতরে ছোবহান পড়ে আছেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তিনি মারা যান।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর প্রতিপক্ষের লোকজন গ্রামবাসী ও নিহতের পরিবারকে নানা কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত লাশ দাফন করায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের পরিবার জানায়, তারা তখন মানসিক চাপে থাকায় কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি।
পরে নিহতের ছেলে মো. রতন বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে থানার অফিসার ইনচার্জ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। এরপর রতন জেলা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ঈশ্বরগঞ্জ আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. রঙ্গু মিয়াসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। মামলার নম্বর— ঈশ্বরগঞ্জ সিআর মামলা নং ৪০৮/২০২৫; ধারা ৩০২/২০১/৩৪ দণ্ডবিধি।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, মামলার আসামিরা ও তাদের স্বজনরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এ ঘটনার পর পুরো দরিবৃ গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
নিহতের ছেলে মো. রতন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছি।”
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসী মামলার বিচারকের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যে কোনো সময় এলাকায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে।