তারিকুল ইসলাম,
স্বাধীন সংবাদ প্রতিনিধি :
টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক সময়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে যে আসনটি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির অপ্রতিদ্বন্দ্বী দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই গোপালগঞ্জ–৩ আসনেই এখন পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা ধ্বনিত হচ্ছে। রাজনীতির আকাশে যেন নতুন দিনের সূর্য উঁকি দিচ্ছে—আর সেই সূর্যের নাম এস এম জিলানী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী যখন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন, তখন টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর গণসংযোগে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের ঢল। গ্রাম, হাট, বাজার, মসজিদের আঙিনা, চায়ের দোকান—সবখানেই এখন একটাই আলোচনা:
“এবার কি সত্যিই পরিবর্তন আসছে?”
একচেটিয়া রাজনীতির দীর্ঘ ছায়া ও বঞ্চনার ইতিহাস
স্বাধীনতার পর থেকে টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়ার মানুষ বারবার ভোট দিয়েছে, কিন্তু বারবার প্রতিদান পায়নি। উন্নয়নের নামে এসেছে প্রকল্প, কিন্তু সেই প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ—ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা একটি গোষ্ঠী বছরের পর বছর এই জনপদকে নিজেদের ব্যক্তিগত বলয়ে পরিণত করেছে।
রাস্তার বেহাল দশা, পর্যাপ্ত হাসপাতালের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকট, যুবকদের কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ আজ ক্লান্ত, হতাশ ও ক্ষুব্ধ। এই দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভই আজ রূপ নিচ্ছে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায়।
জননেতা এস এম জিলানী: সংগ্রাম, সাহস ও সহনশীলতার প্রতীক
এস এম জিলানীর রাজনৈতিক জীবন কোনো বিলাসিতার গল্প নয়—এটি সংগ্রাম আর ত্যাগের ইতিহাস। ধানের শীষের রাজনীতি করতে গিয়ে তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে একের পর এক দমন-পীড়ন। জেল, মামলা, হুমকি—কিছুই তাঁকে রাজপথ ছাড়াতে পারেনি।
৫ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরপরই তাঁর ওপর সংঘটিত নৃশংস হামলা পুরো দেশবাসীকে নাড়া দেয়। সেই হামলায় তিনি ও তাঁর সহধর্মিণী গুরুতর আহত হন এবং তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহকর্মী শহীদ হন। তবুও তিনি প্রতিশোধের ভাষায় কথা বলেননি। বরং আহত শরীর নিয়েও তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি প্রমাণ করেছেন—
সাহস মানে প্রতিহিংসা নয়, সাহস মানে মানবিকতা ধরে রাখা।
নেতৃত্বের পক্ষে নেতাদের কণ্ঠস্বর
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন সাহেব এক সমাবেশে বলেন—
“এই আসনে মানুষ বহু বছর ধরে কেবল শাসন দেখেছে, সেবা দেখেনি। আজ এস এম জিলানী ভাইয়ের মাধ্যমে মানুষ প্রথমবার একজন প্রকৃত অভিভাবকের দেখা পাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন—
“এটা শুধু একজন প্রার্থীর নির্বাচন নয়, এটা টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়ার আত্মমর্যাদার প্রশ্ন।”
টুঙ্গিপাড়া যুবদল সভাপতি মুক্তার মোল্লা তাঁর বক্তব্যে বলেন—
“যে মানুষ নির্যাতিত হয়েও মানুষের প্রতি ভালোবাসা হারায় না, সেই মানুষই আগামীর বাংলাদেশ গড়তে পারে। এস এম জিলানী ভাই সেই যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।”
যুবদল সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন—
“আজকের যুবসমাজ আর মুখে মুখে প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। তারা চায় একজন পরীক্ষিত সংগ্রামী নেতা। এস এম জিলানী আমাদের সেই আস্থার নাম।”
এছাড়াও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ও কোটালীপাড়া উপজেলার বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন—এস এম জিলানীর বিজয় কেবল সময়ের অপেক্ষা।
মানুষের দোরগোড়ায় রাজনীতি: নতুন ধারার নেতৃত্ব
এস এম জিলানীর রাজনীতি কোনো এসি রুমকেন্দ্রিক রাজনীতি নয়। তিনি মানুষের ঘরে যান, বসেন মাটিতে, শোনেন নীরবে। একজন কৃষকের ফসলের দুঃখ, একজন মায়ের চিকিৎসার কষ্ট, একজন যুবকের বেকারত্ব—সবই তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
তাঁর কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয়—
“আমি এমপি হতে চাই ক্ষমতার জন্য নয়। আমি পাশে থাকতে চাই। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। একটিবার সুযোগ দিন—পরীক্ষা দিতে চাই।”
এই বিনয়ী অথচ দৃঢ় উচ্চারণই আজ মানুষকে আন্দোলিত করছে।
‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’—উপমার বাস্তবতা
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, এস এম জিলানীর নেতৃত্বে যে জনস্রোত তৈরি হয়েছে, তা আধুনিক রাজনীতিতে বিরল। তাঁর ডাকে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছে—কোনো ভয় নয়, কোনো লোভ নয়—শুধু বিশ্বাস।
এই কারণেই অনেকে তাঁকে আখ্যায়িত করছেন—
“আধুনিক রাজনীতির হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা”
যাঁর নেতৃত্বে মানুষ নতুন পথের সন্ধান পাচ্ছে।
আগামীর রূপরেখা: আধুনিক ও মানবিক জনপদ
এস এম জিলানীর অঙ্গীকার—
দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি
মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
যুবকদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সহায়তা
কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার
মতের ভিন্নতায় সহনশীল সমাজ
তিনি বলেন—
একবার সুযোগ পেলে আমি এই জনপদকে এমন জায়গায় নিয়ে যাব, যেখানে মানুষ গর্ব করে বলবে—আমরা টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়ার মানুষ।”
উপসংহার: ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে গোপালগঞ্জ–৩
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ–৩ আসনে এখন স্পষ্ট এক রাজনৈতিক জাগরণ। এটি কেবল একটি নির্বাচন নয়—এটি দীর্ঘদিনের অবদমন ভেঙে নতুন অধ্যায় রচনার সুযোগ।
ধানের শীষের এই জোয়ার শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কী রূপ নেয়, সেটিই এখন দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এটুকু নিশ্চিত—টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ এবার আর চুপ নেই। তারা সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত, তারা ইতিহাস লিখতে প্রস্তুত।