ওএমএস ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে আদালতে মামলা, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকার ওএমএস (Open Market Sales) ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, জালিয়াতি ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে একের পর এক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নতুন করে একটি ফৌজদারি মামলাও দায়ের হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিজ্ঞ মহানগর হাকিম আদালত নং-৬, ঢাকায় দায়ের করা সি.আর মামলা নং-৭৬/২০২৬-এ অভিযোগকারী হিসেবে রয়েছেন তারিকুল ইসলাম। মামলায় তিনি দণ্ডবিধির ৫০০/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং তদন্তভার সিআইডিকে (CID) প্রদান করা হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম, যিনি ঢাকা রেশনিংয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া মোঃ মাজেদুল করিম কবির, যিনি অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত, এবং চিন্তা মনি তালুকদার, যিনি এলাকা রেশনিং কর্মকর্তা (ডি/২) হিসেবে দায়িত্বে আছেন, তাদেরও আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ওএমএস ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নীতিমালা অনুসরণ না করে অনিয়মের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। লটারির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং প্রকৃত আবেদনকারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, আবেদন যাচাই-বাছাই ও তদন্তে গাফিলতি এবং প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে একই বিষয়ে ঢাকার ৪র্থ সহকারী জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে একাধিক আবেদনকারী ডিলার নিয়োগ আদেশ বাতিলের প্রার্থনা করেন। তারা অভিযোগ করেন যে, লটারির আয়োজন যথাযথভাবে করা হয়নি এবং অনেক যোগ্য আবেদনকারীকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ওএমএস ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে লটারির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, লটারির সময় গণমাধ্যম, সাধারণ আবেদনকারী এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ছিল না। এতে করে প্রক্রিয়াটি একতরফা ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করেন বাদীপক্ষ। এছাড়া নির্বাচিতদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বে ফৌজদারি মামলা থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়।

নতুন দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সরাসরি কিছু সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় খাদ্যশস্য বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ এই খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আদালত ও তদন্ত সংস্থা পরবর্তী ধাপে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *