মোহাম্মদ হোসেন সুমন:
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের শহর এবং দেশের পর্যটন শিল্পের প্রাণকেন্দ্র কক্সবাজার-কে পূর্ণাঙ্গ সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করার দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। স্থানীয় নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী মহল ও সচেতন মহল মনে করছেন, সময়ের বাস্তবতায় দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
প্রতি বছর লাখো দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে কক্সবাজার। আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত পর্যটন নগরী হিসেবে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, পর্যটকের চাপ এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে শহরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট, জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশন সমস্যা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ—এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান পৌর কাঠামোকে অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বিশিষ্টজন ও বদর মোকাম জামে মসজিদের সভাপতি আদনান সাউদ বলেন, “কক্সবাজার শুধু একটি শহর নয়, এটি বাংলাদেশের গর্ব ও পরিচয়ের অংশ। দেশের পর্যটন রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই শহরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি—যা ন্যায্য ও যৌক্তিক।”
স্থানীয়দের মতে, কক্সবাজার সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে নগর ব্যবস্থাপনা হবে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও পরিকল্পিত। এতে বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি পাবে, আন্তর্জাতিক মানের নগর পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে এবং পর্যটন খাত পাবে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই দিকনির্দেশনা। একই সঙ্গে নাগরিক সেবা হবে দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর; সম্প্রসারিত হবে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ।
সচেতন মহলের অভিমত, দেশের পর্যটন রাজধানীর মর্যাদা ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার বিকল্প নেই।
এ বিষয়ে দ্রুত ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।