মোঃ আনজার শাহ:
কুমিল্লা-৮ বরুড়া উপজেলায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাকারিয়া তাহের সুমন বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ১০৬টি ভোটকেন্দ্রে তিনি ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী শফিকুল আলম হেলালকে (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পরাজিত করেন, যিনি পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৯১ ভোট। নির্বাচনে একজ্যাকের সাংবাদিকরা পর্যবেক্ষক হিসেবে নিরলসভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
সাংবাদিক আনজার শাহ বলেন, “নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা সাংবাদিকতা পেশার প্রকৃত মর্যাদা উপলব্ধি করেছি। এটি শুধু সংবাদ পরিবেশনের কাজ নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা রক্ষার দায়িত্ব। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আমরা সজাগ দৃষ্টি রেখেছি, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছি এবং যেকোনো অনিয়ম রোধে তৎপর ছিলাম। সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি।”
সিনিয়র সাংবাদিক আবুল বাসার মজুমদার বলেন, “তিন দশকের সাংবাদিকতা জীবনে অসংখ্য নির্বাচন কভার করলেও পর্যবেক্ষক হিসেবে এবারের অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্নতর। পেশাগত নিরপেক্ষতা ও সততা বজায় রেখে প্রতিটি পর্যায়ে আমাদের নজরদারি করতে হয়েছে। বরুড়ার ভোটাররা অত্যন্ত সচেতনতার সঙ্গে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। জাকারিয়া তাহের সুমনের এই বিশাল ব্যবধানের বিজয় জনগণের স্পষ্ট রায়ের প্রতিফলন। সাংবাদিক হিসেবে আমাদের উপস্থিতি নির্বাচনী পরিবেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছে।”
মিয়া মামুন বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব মানে প্রতিটি মুহূর্তে সতর্ক ও দায়বদ্ধ থাকা। ভোটগ্রহণের শুরু থেকে ব্যালট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত আমরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেছি। ১০৬টি কেন্দ্রে বিশাল ভোটার উপস্থিতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল উল্লেখযোগ্য। সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ—এই দায়িত্ব পালনে আমাদের নিরপেক্ষ, সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ হতে হয়। জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর তুলে ধরাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
মাওলানা ইউসুফ বলেন, “ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাগত নৈতিকতার সমন্বয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করেছি। প্রতিটি ভোটার যাতে স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়ে আমাদের কড়া নজর ছিল। কোনো ধরনের চাপ, প্রভাব বিস্তার বা কারচুপি ঘটেনি—এটি নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার সফলতা। সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য প্রকাশে অবিচল থাকা এবং জনস্বার্থ রক্ষা করা।”
মামুনুর রশিদ খোকন বলেন, “স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিহার্য। পর্যবেক্ষক হিসেবে আমরা প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটারদের সঙ্গে সমন্বয় করেছি। জাকারিয়া তাহের সুমনের এই বিজয় জনগণের আস্থার প্রমাণ। আমাদের উপস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করেছে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে আমরা কোনো পক্ষপাতিত্ব করিনি।”
সোহেল বলেন, “কুমিল্লা-৮ বরুড়া আসনে ১০৬টি ভোটকেন্দ্রে জাকারিয়া তাহের সুমন ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী শফিকুল আলম হেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৯১ ভোট। এই বিশাল ব্যবধান জনগণের সুস্পষ্ট রায়ের প্রতিফলন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আমাদের ভূমিকা ছিল নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে থেকে আমরা প্রতিটি তথ্য নথিভুক্ত করেছি।
সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা।”
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করেছে। একজ্যাকের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে তাদের পেশাগত নিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।