কুষ্টিয়ায় ওএমএস ডিলারের লাইসেন্স জালিয়াতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আব্দুস সামাদ খান জেলা খাদ্য অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যেখানে তিনি মোঃ কনক শেখের বিরুদ্ধে গুরুতর ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কনক শেখ কখনও গুদাজাত বা খাদ্যশস্যের ব্যবসা করেননি, অথচ তিনি সরকারি ওএমএস (খাদ্যশস্য/খাদ্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় ও গুদামজাতকরণ) ডিলারের লাইসেন্স লাভ করার জন্য জাল কাগজপত্র ব্যবহার করেছেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি যে ঠিকানায় তার গোডাউন ও অফিস দেখিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বাস্তবে সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই।

তদুপরি, অভিযোগে বলা হয়েছে যে, তিন শত টাকার স্ট্যাম্প দলিলও জাল। কনক শেখ ভাড়াটিয়া মালিকের নাম, ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিজেকে সরকারি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। চুক্তিপত্রের স্বাক্ষর এবং স্বাক্ষীগণও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি গরিব মানুষকে সরকারি চাউল সরবরাহ না করে তা গোপনে কালোবাজারে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা সাবিনা ইয়াসমিন এই বিষয়ে বলেন, “লিখিত অভিযোগে উল্লেখিত তথ্যের এক-তৃতীয়াংশ সত্য পাওয়া গেছে।” তিনি আরও জানান, নতুন ডিলারের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকা পে-অর্ডার জমা এবং ৩০০ টাকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের পাশাপাশি কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট সাইজের তিন কপি ছবি, গত তিন মাসের ব্যাংক হিসাব বিবরণী, নবায়ণকৃত ট্রেড লাইসেন্স, দোকানের মালিকানা বা ভাড়া সংক্রান্ত কাগজপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিকত্ব সনদ, জমির খতিয়ান/পর্চা, ফুড গ্রেইন লাইসেন্স নবায়ণ এবং টিন সার্টিফিকেট।

অভিযোগের লিখিত অনুলিপি জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়া, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কুষ্টিয়া, প্রেস ক্লাব কুষ্টিয়া এবং বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুষ্টিয়া জেলায় প্রেরণ করা হয়েছে। এই অভিযোগের তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ অনুসারে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য অফিস যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে কুষ্টিয়ার ওএমএস ডিলারদের নিয়ন্ত্রণ, সরকারি খাদ্যশস্যের সঠিক বিতরণ এবং ভুয়া লাইসেন্স রোধে প্রশাসনিক তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ ধরনের জালিয়াতি যদি বন্ধ না করা হয়, তবে গরিব মানুষ সরকারের খাদ্যসুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *