কেরানীগঞ্জে আওয়ামী দোসর ওহেদুজ্জামানকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি:

ঢাকার কেরানীগঞ্জে কথিত ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ওহেদুজ্জামান ওহেদ–কে ঘিরে একাধিক অভিযোগ ও মামলা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার বলয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো পুরোপুরি আইনের আওতায় আসেনি।

ওহেদুজ্জামান ওহেদ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার পিতার নাম চুন্নু বেপারী এবং মাতার নাম মাহমুদা খাতুন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিকবার মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি সাবেক ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ–এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও এলাকায় পরিচিত। একইসঙ্গে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

পুলিশ ও আদালত সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে আদাবর থানায় ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে পেনাল কোডের একাধিক ধারায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর, সম্পত্তি দখল ও সংঘবদ্ধ সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে আরেকটি মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার সংক্রান্ত আইনের পাশাপাশি পেনাল কোডের বিভিন্ন গুরুতর ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এছাড়া ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলায়ও তাকে অভিযুক্ত করা হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার একটি মামলায় পরে ফাইনাল রিপোর্টের মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে একাধিক মামলার অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি আইনের আওতার বাইরে থাকছেন।

এ বিষয় ওহেদুজ্জামান ওহেদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে নিউজ করলে লাভ নেই। আমি অনেক সাংবাদিক লালন পালন করে আসছি। আপনার যা ইচ্ছা করেন

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, জমি দখল, প্রভাব খাটানো এবং বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে তার নাম জড়িত থাকলেও ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। এতে এলাকায় এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একাধিক মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে এলাকার অনেকেই তার মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে, ওহেদুজ্জামান ওহেদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি নিয়ে কেরানীগঞ্জে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে এবং এলাকায় স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *