কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সক্রিয় থেকে ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিল।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জাহাঙ্গীর প্রকাশ বলি (৫৩), নাসির উদ্দিন (৩৬), মো. ইউসুফ প্রকাশ সাজিদ (২৩), আতাউর রহমান (৪৩), ফরহাদ মিয়া (৩৬), মো. হাফিজুর রহমান সুমন (৪৪) এবং মো. আবুল কালাম প্রকাশ রবিন (২৮)।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নগরীর পলোগ্রাউন্ড স্কুলের বিপরীত পাশে অফিসার্স ক্লাবের নিচ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের একটি চৌকস দল।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের সদস্য বলে স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা কোতোয়ালী থানার টাইগার পাস, ফলমন্ডি, বিআরটিএ এলাকা ও নিউ মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় নিয়মিত ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা বিশেষ করে রাতের বেলায় পথচারী, দোকানদার এবং বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়িযোগে আগত সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করত।
তদন্তে আরও জানা যায়, এই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিত এবং সুযোগ বুঝে দ্রুত অভিযান চালিয়ে পালিয়ে যেত। তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারের ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি ওইসব এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। ডিবি পুলিশের এই অভিযানে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান তারা।
পুলিশ কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে, যা নগরীর অপরাধ দমনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।