স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন।
বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জনগণের কাছে দলের অবস্থান তুলে ধরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভার শুরুতেই বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় দোয়া করা হয়। তাদের আশু আরোগ্যের জন্য নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি দোয়ার আবেদন জানানো হয়।
সভায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও ভয়-ভীতিমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো তুলে ধরা হয়। নেতারা জানান, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান আদেশ) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক জনমত সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দলটির নেতারা বলেন, জনগণকে সচেতন করতে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণা চালানো হবে, যাতে সনদের পক্ষে বৃহত্তর সমর্থন গড়ে ওঠে।
এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে গণভোট অনুষ্ঠানসহ পাঁচ দফা গণদাবি বাস্তবায়নে আন্দোলনরত আটটি দলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায় জামায়াত। এর অংশ হিসেবে দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশকে সফল করতে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়। নেতারা বলেন, জনগণের অংশগ্রহণই এ আন্দোলনের প্রধান শক্তি, আর তাই গণতান্ত্রিক দাবি বাস্তবায়নে দেশবাসীর আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা জরুরি।
বৈঠকে দলীয় কার্যক্রমের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিমূলক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। আগামী ২৮ ও ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বার্ষিক অধিবেশনের প্রস্তুতি, কর্মসূচি, উপস্থাপনযোগ্য প্রস্তাব এবং সাংগঠনিক দিকগুলো চূড়ান্ত করা হয়। এই অধিবেশনকে সফল করতে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।
জামায়াতে ইসলামী নেতারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, নির্বাচন এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় তাদের দল দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চায়। বৈঠকে সব ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এদিন অনুষ্ঠিত বৈঠকে সামগ্রিক আলোচনা শেষে রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও মানবিক—এই তিন বিষয়কে সামনে রেখে অগ্রবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। নেতারা আশা প্রকাশ করেন, দলীয় কর্মসূচি ও রাজনৈতিক প্রচেষ্টা দেশের মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।