স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন—যাকে তিনি ‘রেইনবো নেশন’ হিসেবে কল্পনা করেছিলেন। সব রং মিলেই যেমন রঙধনু তৈরি হয়, তেমনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের সব মানুষকে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে—এটাই ছিল দেশনেত্রীর স্বপ্ন।
শুক্রবার দুপুরে নগরীর প্যারেড মাঠে বৌদ্ধ ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর স্মরণে আয়োজিত ‘জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এক জীবনের মহাকাব্য ছিল দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন, যেখানে কোনো বিভেদ থাকবে না, থাকবে না বৈষম্য। সবাই মিলেই হবে এই দেশের শক্তি।”
ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর জীবন ও দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তিনি আজীবন মানবতা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের কথা বলে গেছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা তার দেখানো আদর্শ পুরোপুরি অনুসরণ করতে পারিনি। আজ সময় এসেছে তার দর্শনকে ধারণ করার এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করার।”
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে কোনোভাবেই যেন বৈষম্য সৃষ্টির সুযোগ না থাকে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। “আমরা সেই চেতনাকে ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছি। দেশনেত্রী আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার আদর্শ ও চেতনা আমাদের পথ দেখাবে আজীবন।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরো শুধু একজন ধর্মগুরুই নন, তিনি ছিলেন সমাজ সংস্কারক ও মানবতার প্রতীক। তার জীবনদর্শন আগামীর জাতি গঠনে অনন্য পাথেয় হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু ও বিশিষ্ট সমাজসেবক ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরো। তার স্মরণে শুক্রবার অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী ও বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও অনুসারী উপস্থিত ছিলেন।