মোঃ আনজার শাহ:
দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, টেকসই নগরায়ন এবং আধুনিক সরকারি স্থাপনা নির্মাণে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর ও কার্যকর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। এ লক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকার (JICA)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
জাইকার বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুছি তমুহিদের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়। সাক্ষাৎকালে জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশের গৃহায়ন ও গণপূর্ত খাতে ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত এবং বর্তমানে চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি ভবন নির্মাণ এবং আধুনিক নগরায়নে জাইকার নিরলস সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাইকা কেবল একটি দাতা সংস্থা নয়, বরং একটি বিশ্বস্ত ও কার্যকর উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জাইকার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নে যে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
জাইকার প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুছি তমুহিদে বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষত গৃহায়ন ও গণপূর্ত খাতে চলমান প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে ও মানসম্পন্নভাবে সম্পন্ন করতে জাইকা সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগরায়ন এবং আধুনিক সরকারি স্থাপনা নির্মাণে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ইতিবাচক মতবিনিময় করেন। নতুন প্রকল্প চিহ্নিতকরণ ও দ্রুত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়েও একমত হন উভয় পক্ষ।
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।