গৌরীপুরে আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ, বাদী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায়

মোছাঃ নাছিমা খাতুন সুলতানা:

ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের তৈয়বার কান্দ গ্রামে আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক জমি দখল ও গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাদী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছে।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তৈয়বার কান্দ গ্রামের মৃত আঃ খালেক মাস্টারের ছেলে মোঃ জুয়েল মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের আমছর আলীর ছেলে মোঃ রশিদ মিয়াসহ কয়েকজনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এ সংক্রান্ত একটি মামলা প্রায় দুই বছর ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে আদালত মামলা চলমান থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ মোঃ রশিদ মিয়া ও তার লোকজন বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখল নেয় এবং জমিতে থাকা গাছ কেটে নিয়ে যায়। এ সময় বাদী মোঃ জুয়েল মিয়া প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে বি.আর.এস রেকর্ড অনুযায়ী ৩৩ শতাংশ জমি চার জনের নামে রেকর্ড হয়। তারা হলেন—
হাসেন আলী, আনছার আলী, রজব আলী (পিতা: মৃত মফিজ উদ্দিন) এবং আব্দুল খালেক মাস্টার (পিতা: মৃত আববাছ আলী)। প্রত্যেকের অংশ ছিল ৮.২৫ শতাংশ করে।

পরবর্তীতে হাসেন আলী ১০ শতাংশ জমি বিক্রির কথা জানালে আব্দুল খালেক মাস্টার তা সাফ কাওলা মূলে ক্রয় করেন। একইভাবে আনছার আলী ও রজব আলী পৃথকভাবে ৫ শতাংশ করে জমি সাফ কাওলা মূলে বিক্রি করেন আব্দুল খালেক মাস্টারের স্ত্রী মোছাঃ সাজেদা বেগমের কাছে। এসব জমি দীর্ঘদিন ধরে সাজেদা বেগম ও তার ওয়ারিশরা ভোগদখল করে আসছিলেন।

পরবর্তীতে জমির হিসাব ও রেকর্ড নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে গ্রাম্য শালিস বসে। একপর্যায়ে দেখা যায়, সাফ কাওলা মূলে ক্রয় করা কিছু জমি বি.আর.এস রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়নি—যাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

এ অবস্থায় মোছাঃ সাজেদা বেগমের বড় ছেলে মোঃ জুয়েল মিয়া বাদী হয়ে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এখনো বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সর্বশেষ এই জবরদখলের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মোঃ জুয়েল মিয়া বাদী হয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন—
মোঃ রশিদ মিয়া, মোঃ সুজন মিয়া, মোঃ রফিকুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম ও আঙ্গুরা আক্তার।

অভিযোগ পাওয়ার পর গৌরীপুর থানার একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বাদী মোঃ জুয়েল মিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

বাদী পরিবার অভিযোগ করে জানায়, বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় আদালতের বিচারক, জেলা পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *