ভ্রাম্যমান রিপোর্টার:
ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের পাঁচ কাহানী গ্রামে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ষাঁড়ের লড়াই নিয়ে সাংবাদিকদের ভুল প্রতিবেদন স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভোরের সময়ে পাঁচ কাহানী গ্রামের মধ্যে একটি ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, এবং উৎসুক জনতা লড়াই দেখতে সেখানে ছুটে আসে। ঘটনার খবর শুনে এক সাংবাদিক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিপোর্ট তৈরি করেন। তবে প্রতিবেদনে ঘটনার সঠিক স্থান উল্লেখ না করে গৌরীপুর উপজেলার মাওয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের নাম উল্লেখ করা হয়।
এই ভুল তথ্য প্রকাশের পর মাওয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউ.পি সদস্য মোঃ কামাল হোসেন সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে কড়া অভিযোগ করেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথার কাটাকাটির পাশাপাশি হুমকি-ধামকির ঘটনা ঘটে। পরে সাংবাদিক গৌরীপুর থানায় একটি জিডি/অভিযোগ দায়ের করে মোঃ কামাল হোসেনকে আসামি করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিক মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
এই খবর প্রকাশের পর জাতীয় ও স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনা শুরু হয়। ঢাকা থেকে আসা কিছু সাংবাদিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে এলাকাবাসী নিশ্চিত করেন যে, ষাঁড়ের লড়াইটি আসলে অচিন্তপুর ইউনিয়নের পাঁচ কাহানী গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা জানান, প্রতিবেদনে মাওয়া ইউনিয়নের নাম উল্লেখ করার কারণে পরিস্থিতি ভুল বোঝার সৃষ্টি হয়েছে।
৪ নং মাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, উক্ত তারিখে তাদের ইউনিয়নের মধ্যে কোনো ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়নি। চেয়ারম্যান বলেন, “সাংবাদিক যদি সঠিক স্থান উল্লেখ করতেন, তবে এই ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হতো না। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই।”
ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী মোঃ কামাল হোসেনের পরিবার এবং এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসন ও জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, এই ধরনের ভুল সংবাদ স্থানীয় শান্তি ও ঐক্য বিঘ্নিত করতে পারে।
এছাড়াও এলাকাবাসী হিসেবে অভিযোগ করেছেন ইউ.পি সদস্য মোঃ মানিক মিয়া, মহিলা মেম্বার মোছাঃ শাপলা আক্তার, মোছাঃ পপি শেখ, সাবেক মেম্বার রশিদ মিয়া, সামছুল হক, আজিজুল হকসহ আরও অনেকে। তাদের মতে, ভুল প্রতিবেদনের কারণে স্থানীয়দের মানহানি এবং মনমথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের সঠিক তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ না করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
স্থানীয়দের মন্তব্যে আরও বলা হয়েছে, “সাংবাদিকরা সঠিক স্থান এবং ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করলে এই ধরনের বিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো সম্ভব হত। আমাদের আশা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবে এবং দুই পক্ষের মধ্যে শ্লঘ্ন সমাধান নিশ্চিত করবে।”
এদিকে এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। নাগরিকরা উল্লেখ করছেন, “সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের যথাযথতা অপরিহার্য। একটি ভুল স্থানীয় শান্তি বিনষ্ট করতে পারে।”
গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়ন ও মাওয়া ইউনিয়ন এই ঘটনার প্রভাব থেকে শিক্ষা নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।