মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ সামনে রেখে ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং জনগণের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যাপক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ রায়হান কবির সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।
আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরে নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির মিলনায়তনে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক কমিউনিটি ডায়ালগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজনে জেলা তথ্য অফিস
নারায়ণগঞ্জ জেলা তথ্য অফিস ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা তথ্য অফিসার কামরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. রায়হান কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান সরকার, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালের পরিচালকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় নারী-পুরুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরলেন জেলা প্রশাসক
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
“গণভোটে জনগণের ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারবেন। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের পক্ষে মত দেওয়া, আর ‘না’ ভোট মানে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া।”
তিনি বলেন,
“আপনারা যারা সমাজ ও পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে উপস্থিত আছেন, আপনাদের দায়িত্ব হলো এই গণভোটের বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং সরকারকে সহযোগিতা করা।”
সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন নিশ্চিতের অঙ্গীকার
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক বলেন,
“আমাদের সত্যের পক্ষে ও নিরপেক্ষতার পথে থাকতে হবে। সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা যেন একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্বাচন উপহার দিতে পারি—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সব ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
“ইতোমধ্যে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং কঠোর মনিটরিং করা হবে,”—বলেন তিনি।
উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয়
ডিসি মো. রায়হান কবির বলেন,
“সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি। জনগণের সহযোগিতায় আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দিতে পারব বলে বিশ্বাস করি।”
বক্তাদের মতামত
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে প্রত্যেক নাগরিককে সচেতনভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।
প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে
সভায় জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের কমিউনিটি ডায়ালগ, লিফলেট বিতরণ ও মাঠপর্যায়ের প্রচারমূলক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।