এন আলম রাসেল চৌধুরী:
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) মোঃ নাদিম হায়দার চৌধুরীর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুল হকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অংশ নেন এসআই (নিঃ) মোঃ জিশান আহম্মেদ, পিপিএম-সেবা এবং তাঁর সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে জোরারগঞ্জ থানাধীন বারইয়ারহাট পৌরসভার উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত উত্তরা বাস স্টেশনের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় ঢাকাগামী একটি রিলাক্স বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা-মেট্রো-ব-১৫-৯৪৮৮।
তল্লাশিকালে বাসটির সুপারভাইজার জাকির হোসেনের আচরণ সন্দেহজনক হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তার হেফাজত থেকে ৭০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামীর নাম জাকির হোসেন (৪৩)। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার পিতা গণি মিয়া, মাতা আফিয়া বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সস্তাপুর (প্রধান বাড়ি) এলাকায়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। বাসের সুপারভাইজার পরিচয়ের আড়ালে তিনি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাদক সরবরাহ করতেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, মাদক নির্মূলে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মহাসড়ককে ব্যবহার করে মাদক পাচারের যে প্রবণতা রয়েছে, তা রোধে চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা পুলিশের এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মাদক কারবারিদের কারণে সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চলমান থাকলে মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।