এন আলম রাসেল চৌধুরী:
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ নাদিম হায়দার চৌধুরীর তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হকের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ ফারুক উদ্দিনসহ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান ডিউটি পালন করছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানাধীন বারইয়ারহাট পৌরসভার উত্তর সোনাপাহাড় এলাকার শ্যামলী বাস স্টেশনের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পাকা রাস্তার ওপর একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
চেকপোস্ট চলাকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস (নম্বর: ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৪৫২০) তল্লাশি করা হয়। এ সময় বাসের দুই নারী যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাদের সঙ্গে থাকা দুটি ভ্যানিটি ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে প্রতিটি ব্যাগ থেকে ৪০০ পিস করে মোট ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে ইয়াবাসহ ওই দুই নারীকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জমিলা বেগম (২৫) ও খুরশিদা বেগম (২৬)। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, জমিলা বেগমের পিতা মাহমুদ হোসেন, মাতা আনোয়ারা এবং স্বামী আব্দুর শুক্কুর। অপরদিকে খুরশিদা বেগমের পিতা শেখ রহমত উল্লাহ, মাতা লাইলা বেগম ও স্বামী মোঃ ইয়াছিন। তারা দুজনেই কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন বালুখালী ক্যাম্প-৯ এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হক জানান, মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশের এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি জানান।