টাঙ্গাইলের মহিলা ও যুব সমাজের প্রেরণার উৎস সৈয়দা রকসি মেহেদী

লাবলূ মিয়া:

টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক মহলে সৈয়দা রকসি মেহেদী একজন পরিচিত এবং সুপরিচিত নেত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহিলা সংরক্ষিত আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার প্রতি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা দিনদিন বাড়ছে। একাধারে আইনজীবী, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি টাঙ্গাইলের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।

সৈয়দা রকসি মেহেদী একজন এডভোকেট এবং শিক্ষা অর্জন করেছেন এম.এ. (বাংলা), এল.এল.বি ও এল.এল.এম-এ। তিনি জজ কোট, টাঙ্গাইল-এ আইন পেশায় সক্রিয়। আইনজীবী হিসেবে তার সততা, দক্ষতা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় নিরলস কাজের জন্য তিনি সমাদৃত। সোনালী ব্যাংকের জেলা পর্যায়ের আইনজীবী হিসেবেও তার অবদান প্রশংসনীয়।

রাজনীতিতে তার পদচারণা শুরু হয় ১৯৯৪ সালে, যখন তিনি এইচ.এস.সি স্তরে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালে সাদ’ত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, করটিয়ায় মহিলা হোস্টেলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং একই বছর ছাত্র সংসদে মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদও অর্জন করেন। এরপর ২০০৩ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলে যোগদান করেন এবং জেলা শাখার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তার রাজনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অসাধারণ। ২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলাদল, জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক হন। ২০১১ সালে সদর থানায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৩ সালে জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০১৭ সালে সহসভাপতি পদে অভিষিক্ত হন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তে সহশ্রম বিষয়ক সম্পাদক।২০১৯ সালে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালে তিনি জেলা শাখার সাধারণ সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

আইনজীবী ফোরাম, টাঙ্গাইল-এও তিনি একটি বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালে দপ্তর সম্পাদক, ২০১৬ সালে আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং ২০১৮ সালে নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালে তিনি সহ-সভাপতি হিসেবে ফোরামের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও প্রভাবশালী করেছেন।

সৈয়দা রকসি মেহেদী শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও আইনজীবী হিসেবে নয়, সমাজসেবার ক্ষেত্রেও তার অবদান ব্যাপক। তিনি ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (USAID) এর মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলার জন্য বিএনপি রাজনৈতিক ট্রেইনারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও কাজ করছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে তার নেতৃত্ব শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

পরিবারও তার রাজনৈতিক পথচলায় প্রেরণার উৎস। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কন্যা হিসেবে তিনি দেশের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্যে সবসময় সচেষ্ট। তার পরিবারের সকল সদস্য বিএনপি এর সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকায় রাজনৈতিক ঐক্য ও আদর্শে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী।

সৈয়দা রকসি মেহেদীর নেতৃত্বে টাঙ্গাইলের মহিলা ও যুব সমাজের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। তিনি নারী শিক্ষার উন্নয়ন, সামাজিক সচেতনতা, স্বাস্থ্য ও আইন সংক্রান্ত সেবায় বিশেষভাবে মনোযোগী। জনগণের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যার সমাধান করা এবং তাদের অধিকার রক্ষায় তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

টাঙ্গাইলবাসী তাকে শুধু রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবেই নয়, সমাজসেবক ও আইনের প্রতি দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবেও শ্রদ্ধা করে। তার কর্মের প্রতি আস্থা এবং সৎ নেতৃত্বের জন্য তাকে সমালোচকরা পর্যন্ত স্বীকৃতি দেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৈয়দা রকসি মেহেদী যদি মহিলা সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হন, তা হলে তিনি শুধুমাত্র ভোটের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণ এবং ন্যায়বিচারের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

সৈয়দা রকসি মেহেদী টাঙ্গাইলের জনগণের জন্য এক অনন্য নেত্রী, যিনি প্রজন্মের চাহিদা অনুযায়ী সমাজ, শিক্ষা, আইন ও রাজনীতির ক্ষেত্রে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তার নেতৃত্বে টাঙ্গাইল আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও মানবিক হবে—এটাই তার সমর্থকরা আশা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *