টাঙ্গাইলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন? আলোচনায় জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন

মোঃ মশিউর রহমান:

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে কে আসছেন? জেলায় জোর আলোচনা চলছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন ব্যস্ততা, তেমনি টাঙ্গাইলের রাজনীতিতেও বইছে নতুন হিসাব-নিকাশের হাওয়া। জেলার সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন—টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে কে দায়িত্বে আসছেন।

চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য নামের তালিকায় প্রথম সারিতে উঠে আসছে বিপুল ভোটে নির্বাচিত টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের নাম। হাসানুজ্জামিল শাহীন জিয়ার আদর্শের সৈনিক। তিনি টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের টানা ৯ বছরের সাবেক সফল সভাপতি এবং সাবেক সফল সভাপতি, টাঙ্গাইল শহর বিএনপি। বর্তমানে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি এবং টাঙ্গাইল জেলার লক্ষ লক্ষ মানুষের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত।

তিনি বিগত বছরে আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে অত্যাচারিত ও নির্যাতিত হয়ে চরম দুঃসময়েও হাল ছাড়েননি। জেলা বিএনপির সকল কর্মীদের আগলে রেখে, জেল-জুলুম মাথায় নিয়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপিকে সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন। তিনি একজন কর্মীবান্ধব, সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।

রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা—সবখানেই এই পদ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এদিকে দায়িত্ব পাওয়ার আশায় আগ্রহী কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যেই দলের শীর্ষ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণে লবিং-তদবিরে সক্রিয় হয়েছেন বলে জানা গেছে। সামাজিক মাধ্যমেও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন পক্ষের প্রচারণা।

জেলার একাধিক সচেতন নাগরিকের সঙ্গে আলাপে উঠে এসেছে অতীতের নানা অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদে উন্নয়নের নামে অনিয়ম, চাকরিতে বৈষম্য এবং দুর্নীতির অভিযোগ সাধারণ মানুষের মনে হতাশা তৈরি করেছে। “নতুন বাংলাদেশে আমরা চাই স্বচ্ছতা, ন্যায়নীতি ও সমবণ্টন”—এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ।

সচেতন মহলের অভিমত, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে যিনি দায়িত্বে আসবেন, তাকে হতে হবে সবার অভিভাবক। প্রশ্নাতীত সততা, জবাবদিহিতা এবং সকলের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গিই হওয়া উচিত প্রধান যোগ্যতা।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ কেবল একটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় কেন্দ্র। ফলে এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে কে আসছেন, তা নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই তুঙ্গে।

শেষ পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কার কাঁধে অর্পিত হবে—সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *