টিআই আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে ম্যাক্সিমা টেম্পো থেকে নেওয়ার অভিযোগমাসোহারা

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে ম্যাক্সিমা টেম্পো মালিক ও চালকদের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও চালকদের অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়মিত অর্থ না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় চলাচলকারী ম্যাক্সিমা টেম্পোগুলোর অনেকগুলোরই সঠিক রেজিস্ট্রেশন বা নম্বর প্লেট নেই। আবার কিছু ক্ষেত্রে একই নম্বর ব্যবহার করে একাধিক গাড়ি চলাচল করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক টেম্পোর সামনের দিকে নম্বর থাকলেও পেছনে নম্বর প্লেট নেই—এ ধরনের অনিয়ম সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের দাবি।

চালক ও মালিকদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিষয়টি উপেক্ষা করে টিআই আলতাফ হোসেনের সঙ্গে ‘ম্যানেজ’ করেই তারা গাড়ি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। নিয়মিত মাসোহারা দেওয়ার মাধ্যমে তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন বলেও অনেকে স্বীকার করেন। তবে এই অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বতঃস্ফূর্ত না হয়ে চাপের মুখে দিতে হচ্ছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় একাধিক টেম্পো চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাস শেষে নির্দিষ্ট অংকের টাকা না দিলে ট্রাফিক পুলিশ নানা অজুহাতে গাড়ি আটকানো, মামলা দেওয়া কিংবা জরিমানা করার ভয় দেখায়। এতে করে তারা বাধ্য হয়ে অর্থ প্রদান করেন বলে দাবি করেন। তাদের ভাষ্যমতে, এই কারণে এলাকায় এক ধরনের অঘোষিত ‘চাঁদাবাজি ব্যবস্থা’ চালু রয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, শুধু ম্যাক্সিমা টেম্পো নয়, এলাকায় চলাচলকারী বিভিন্ন শ্রেণির পরিবহন থেকেও মাসোহারা আদায়ের বিষয়টি রয়েছে। বিশেষ করে যেসব গাড়ির কাগজপত্রে ত্রুটি রয়েছে বা অনিয়ম রয়েছে, সেগুলোকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায় করা হয় বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে টিআই আলতাফ হোসেনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো কতটুকু সত্য তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হলে আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। একই সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হলে পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *