মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চারজন পেশাদার ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা একাধিক দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অভিযানে আরও তিনজন ডাকাত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল হালিম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন ১নং বাবুরাইল এলাকার ১১৮/১ মোবারকশাহ রোডে অবস্থিত বনফুল সুইটস (প্রা.)-এর সামনে পাকা রাস্তার ওপর ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—
১) মোঃ রবিন (৪০), পিতা- মৃত আজাদ, মাতা- আনোয়ারা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা: ০২ নং বাবুরাইল মসজিদের সামনে, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর। বর্তমানে ০২ নং বাবুরাইল কুতুব মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসরত।
২) হৃদয় সিকদার ওরফে সুমন আহমেদ (২৮), পিতা- খোকন সিকদার ওরফে শরাফত ওরফে কামাল, মাতা- মায়া বেগম। স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম ভূইয়াপাড়া, ৪৮৪/৪ শাহ সুজা রোড, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর।
৩) মোঃ সজল (২১), পিতা- মোঃ শুক্কুর আলী, মাতা- মোছাঃ নাজমা। স্থায়ী ঠিকানা: গঙ্গীপাড়া, থানা- রাঙ্গাবালী, জেলা- পটুয়াখালী। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন জল্লাপাড়া মসজিদ গলি, সুমনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া।
৪) মোঃ মকবুল সরদার (৪০), পিতা- মৃত সুলতান সরদার, মাতা- আনোয়ারা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা: সৈয়দপুর বড় বাড়ি, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে—
-
সুইচ গিয়ার: ২টি
-
চাপাতি: ১টি
-
ছোরা: ২টি
-
লোহার রড: ৫টি
-
হাম্বল: ১টি
জব্দ তালিকা মোতাবেক এসব আলামত আইনানুগভাবে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত চারজনসহ পলাতক আরও তিনজন আসামির বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের অদ্য বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ডাকাতি, ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা পুলিশের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ মানুষ আরও নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।