স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজধানী ঢাকার প্রতিটি আসনে ভোটার কার্ড মাইগ্রেশন এবং ঠিকানা পরিবর্তনের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্য জেলা থেকে কর্মী এনে ঢাকা আসনের ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২২০ জনের ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি ভোট কারচুপির আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভোটার সংখ্যা বাড়ানোর নামে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির এক ধরনের কৌশল, যা নির্বাচনী আচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিএনপি নেতাদের বরাতে জানা যায়, দলীয় নেতা নবীউল্লাহ নবী সকল বিএনপি প্রার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজনীতিক ইতিহাসে ভোট কম পাওয়া বা সংসদে আসন সংখ্যা কম নিয়ে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়শই ভোটের মাঠে অসৎ উপায়ে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করে। এইবারও একই কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে তথ্য এসেছে। তাই আমাদের প্রার্থীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”
বিএনপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা ১ থেকে ঢাকা ২০ আসন পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটারদের তথ্য ও ভোটার ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নজর রাখতে হবে। এছাড়া ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও নির্বাচনী মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য হুমকি। তারা বলছেন, “যদি ভোটার কার্ড মাইগ্রেশন ও ঠিকানা পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে নির্বাচনের ফলাফলে বৈধতার প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। এজন্য সব রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নজর রাখতে হবে।”
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারকার নির্বাচন ‘তারুণ্যের ভোট’ হিসেবে পরিচিত। নতুন ভোটাররা এবং তরুণ ভোটাররা অংশগ্রহণে সক্রিয়। বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তরুণ ভোটারদের ভোটের অধিকার লুকোচুরি বা প্রভাবিত না হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবী বলেন, “আমরা চাই, আসন্ন নির্বাচন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জনমত প্রতিফলিত করে অনুষ্ঠিত হোক। কোন দলই অসৎ উপায়ে ভোট প্রভাবিত করতে পারবে না। আমাদের প্রার্থীরা এবং সমর্থকরা প্রতিটি কেন্দ্রে সচেতন ও সজাগ থাকবেন।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ভোটার আইডি কার্ড মাইগ্রেশন বা ঠিকানা পরিবর্তনের মতো কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র ভোট কারচুপি নয়, এটি রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনমতের উপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা হিসেবেও দেখা যায়। তাই নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বিএনপি নেতারা সাধারণ ভোটারদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, “প্রত্যেক ভোটারকে নিশ্চিত করতে হবে যে তার ভোট সঠিকভাবে গণনা হচ্ছে। ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা বা পরিচয় সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম হলে তা দ্রুত নির্বাচন কমিশনের নিকট জানাতে হবে। আমাদের লক্ষ্য স্বচ্ছ ও ন্যায্য ভোট নিশ্চিত করা।”
ঢাকার নির্বাচনী মাঠে এমন সতর্কবার্তা ও নজরদারির প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশ্বস্ত করেছেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা নিশ্চিত করলে কোনো অসৎ কৌশলই নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনে সফল হবে না।