ঢাকা রেশনিং কার্যালয়ের ডি–২ এর এআরও চিন্তামণি তালুকদারের দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

ঢাকা রেশনিং কার্যালয়ের ডি–২ এর এআরও চিন্তামণি তালুকদার একজন অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। তাঁর এলাকায় প্রতিটি ডিলারকে জিম্মি করে টাকা নেওয়া হয়। সেলপ্রতি ৪ হাজার টাকা না দিলে সেল তালিকায় ডিলারের নাম রাখা হয় না। চিন্তামণি তালুকদার ইচ্ছা করে কোনো সাংবাদিকের ফোন রিসিভ করেন না। তাঁকে ফোন দিয়ে কেউ পেয়েছে—এমন নজির নেই।

ডি–২ এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নতুন ডিলার বলেন, এআরও চিন্তামণি তালুকদারকে ৪ হাজার টাকা, তদারককারী কর্মকর্তাকে ২ হাজার টাকা দিলে আমাদের লাভ থাকে কোথায়? আমরা অনেকেই চিন্তামণি তালুকদারকে প্রশ্ন করেছিলাম, যদি ৬ হাজার টাকা আপনাদের দিতে হয় তাহলে আমাদের তো কোনো লাভই থাকে না। উত্তরে চিন্তামণি তালুকদার বলেন, “ট্রাকে মাল দিয়েছি। অল্প কিছু গরিবদের কাছে বিক্রি করে বাকিটা বেশি দামে বাইরে বিক্রি করবেন। অভিযোগ আসলে আমি দেখবো। আমার সিসিডিআর দেখবে। আপনারা এত চিন্তা করেন কেন।”

ঢাকা রেশনিংয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক সাব্বির হোসেন মুরাদ বলেন, ওএমএস পণ্য সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একটানা বিক্রি চলবে। আর পয়েন্টের তদারককারী ব্যালেন্স সিটে সিগনেচার করে তারপর গাড়ি ছাড়বে। যদি তদারককারীর অনুমতি কিংবা সিগনেচার ছাড়া গাড়ি ছাড়ে তাহলে সেটা অবৈধ পণ্য বলে গণ্য হবে। সাব্বির আহমেদ মুরাদ আরও বলেন, “এআরও চিন্তামণি তালুকদার যদি এভাবে বলে থাকেন তাহলে সেটা মহা অন্যায় বলেছেন। আমি স্যারকে বিষয়টি জানাবো।”

এদিকে গেন্ডারিয়া আইজিপি গেট এলাকার এক ডিলারের প্রতিনিধি বলেন, “আমি দুঃখের কথা আর কী বলব। আমি হজ করে আসছি। আমার মাথায় টুপি আছে, মিথ্যা কথা বলতে পারব না। চিন্তামণি স্যারের এই ডি–২ এলাকায় কোনো ডিলার সব মাল বিক্রি করেন না। এমনকি সব মাল এক দিনে বিক্রির সম্ভাবনাও নেই।”

এ বিষয়ে ঢাকা রেশনিং কার্যালয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীর হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। উল্লেখ্য, এআরও চিন্তামণি তালুকদার তাঁর অফিস সহায়ক আনোয়ার হোসেনের মাধ্যমে ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ লেনদেন করেন। এছাড়াও অন্য একটি পয়েন্টে জনসম্মুখে তদারককারীর সঙ্গে ঘুষ লেনদেন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। এক ডিলার প্রকাশ্যে বলেন, “আমি সেলপ্রতি আপনাকে দিই ২ হাজার টাকা এবং আপনার স্যার এআরও–কে দিই সেলপ্রতি ৪ হাজার টাকা। আর আপনি তো জানেন, ১ লাখ টাকা এককালীন আপনাদেরকে দিয়েছি।” এমন একটি ভিডিও ক্লিপ ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।

ঢাকা রেশনিংয়ের অসাধু এই কর্মকর্তা চিন্তামণি তালুকদারের ঘুষবাণিজ্য ও নানান অনিয়মের লাগাম টেনে ধরতে পারলে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে মনে করেন সুশীল সমাজ। ওএমএস-এর ঘুষ–বাণিজ্য ও কালোবাজারির আরও বিস্তারিত সংবাদ আসছে পরবর্তী সংখ্যায়—যেখানে প্রকাশ করা হবে চিন্তামণি তালুকদারের পূর্ণ পরিচয় ও অবৈধ সম্পদের আমলনামা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *