ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর কোনো ধরনের আন্দোলন বা অন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে সড়কে নামার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সমসাময়িক ইস্যুতে ব্রিফিংকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন এবং সতর্ক করেন, তফশিল ঘোষণার পর আইনবিরুদ্ধ যে কোনো আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা হবে।
শফিকুল আলম বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত দুই হাজার আন্দোলন হয়েছে। তবে এসব আন্দোলনে কখনো রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয়নি। শুধু টিয়ারশেল এবং গরম পানি প্রয়োগ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “মেট্রোরেলের আন্দোলনের প্রসঙ্গে সতর্ক থাকতে হবে। তফশিল ঘোষণার পর কোনো ধরনের দাবি-দাওয়া নিয়ে সড়কে নামলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। যারা এ ধরনের আন্দোলন করবেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এসব সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে জালিয়াতির ঘটনা বেড়েছে। এর ফলে দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধান উপদেষ্টা জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশের সুনাম রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। এ বিষয়ে কারও সঙ্গে আপোষ হবে না।”
শফিকুল আলমের হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচন ও তফশিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ শান্তিপ্রিয় ভোটারদের জন্য নিশ্চয়তা দেবে। তবে একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যেসব আন্দোলন হয়েছে, তার সবই যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। রাস্তাঘাটে অযথা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা হলে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।”
তিনি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার গুরুত্বও তুলে ধরেন এবং বলেন, “নির্বাচনের সময় শান্তিপ্রিয় পরিবেশ বজায় রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ। এ জন্য সব ধরনের প্ররোচনা বা অন্যায্য আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে দেওয়া আমাদের কর্তব্য।”
শফিকুল আলমের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, সরকারের দৃষ্টি নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করাতে। তিনি নেতিবাচক আন্দোলন এবং আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, তফশিল ঘোষণার পর আইন ভঙ্গ না করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে।