মুহাম্মদ ওয়াহিদুন নবী বিপ্লব:
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র তাপদাহ, আর্দ্রতা এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়া। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পেশাজীবীরা যেমন নিজেদের কাজের ধরন ও পোশাকে কিছুটা পরিবর্তন আনার কথা ভাবেন, তেমনি আদালত প্রাঙ্গণে কর্মরত আইনজীবীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এখন আলোচনার দাবি রাখে। ঐতিহ্যগতভাবে কালো কোট, সাদা শার্ট, ব্যান্ড ও গাউন—এই পোশাকই আইনজীবীদের পরিচয়ের প্রতীক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই পোশাক কি বর্তমান আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
ঐতিহাসিকভাবে আইনজীবীদের পোশাকের ধরণ এসেছে ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমল থেকে। সে সময়ের আবহাওয়া ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মতো উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশে বছরের দীর্ঘ সময়জুড়ে এই ভারী ও গাঢ় রঙের পোশাক পরিধান করা অনেকটাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। আদালতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করা আইনজীবীদের জন্য এটি শারীরিক অস্বস্তি এবং কখনো কখনো স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করে।
তীব্র গরমে কালো কোট ও গাউন শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, ঘাম ঝরায় এবং ক্লান্তি সৃষ্টি করে। এর ফলে কাজের মনোযোগ কমে যেতে পারে, যা বিচার প্রক্রিয়ার মানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন বা ত্বকের সমস্যার মতো ঝুঁকিও তৈরি হয়।
বিশ্বের অনেক উষ্ণ দেশের আদালত ইতোমধ্যে মৌসুমভিত্তিক পোশাকের বিধান চালু করেছে। গরমের সময় হালকা কাপড়, কম স্তরের পোশাক বা বিকল্প ইউনিফর্ম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এতে পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেই কর্মপরিবেশকে আরও সহনীয় করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশেও এ বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা প্রয়োজন। আইনজীবীদের জন্য গ্রীষ্মকালীন পোশাক হিসেবে হালকা কাপড়ের সাদা শার্ট, টাই বা ব্যান্ড বজায় রেখে কোট বা গাউন পরিধানে সাময়িক ছাড় দেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে তাপপ্রবাহের সময় এমন ব্যবস্থা আইনজীবীদের স্বস্তি দেবে এবং কাজের দক্ষতা বাড়াবে।
তবে পোশাক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পেশার মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও ঐতিহ্য বজায় রাখাও জরুরি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেমন বার কাউন্সিল বা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে, যেখানে মৌসুম ও আবহাওয়ার ভিত্তিতে পোশাকের বিকল্প নির্ধারণ থাকবে।
সবশেষে বলা যায়, পরিবর্তিত জলবায়ু বাস্তবতায় পেশাগত পরিবেশকে সময়োপযোগী করা এখন জরুরি। আইনজীবীদের পোশাকেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানো উচিত। মানবিক, বাস্তবসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত সিদ্ধান্তই পারে বিচার ব্যবস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ অংশকে আরও কার্যকর ও সহনীয় করে তুলতে।