লাবলু মিয়া:
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দীর্ঘদিন পর দেশে এক গ্রহণযোগ্য এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। তবে এবার উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ নিজেদের ইচ্ছামতো ভোট দেবেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। টুকু বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রশাসনের ভূমিকা সন্তোষজনক। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আশা করি প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানানো উচিত। টুকু আশা প্রকাশ করেন, জনগণ সুযোগ দিলে টাঙ্গাইল-৫ কে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক এবং কিশোর গ্যাংমুক্ত করে একটি নিরাপদ জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরীফা হক সভাপতিত্ব করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী সহ স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে টুকু বলেন, “আমি আশা করি স্থানীয় জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে দায়িত্ব দেবেন। আমি ভোটারদের জন্য তাদের ভোটের অধিকার রক্ষা এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে টাঙ্গাইল-৫ আসনের জন্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর ২১ ডিসেম্বর জেলা নির্বাচন অফিস থেকে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং ২৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তা জমা দেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রথমবারের মতো টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতির দায়িত্বে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে প্রায় ৩৫০টি হয়রানিমূলক মামলার মুখোমুখি হতে হয়। এই মামলাগুলোর কারণে তিনি ১২ দফা কারাভোগ করেছেন, প্রায় পাঁচ বছর জেল খেটেছেন এবং ৪৬ দিন রিমান্ডে থেকেছেন।
টুকু বলেন, “আমি নির্বাচনকে জনগণের সেবা এবং এলাকার উন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছি। আমি চাই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীরা ভয়মুক্তভাবে ভোট দিতে পারবেন।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দিন সকলকে দায়িত্বশীল হয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার ব্যবহার করতে হবে।
বিএনপি নেতা মনে করান, টাঙ্গাইল-৫ আসনে জনগণ যদি সঠিকভাবে ভোট দেয়, তবে এলাকার শিক্ষার মান, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। টুকু আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা একটি নিরাপদ, সবুজ ও উন্নত টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই।”
সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর এই প্রচারণা ও মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তারা একজোট হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে এবং ভোটারদের কাছে তার মনোনয়ন ও প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দিতে কাজ করছেন।