নাছিমা খাতুন সুলতানা:
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় সাফ কাওলা জমি জোরপূর্বক দখল করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের বড় বাট্টা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ফারুক মিয়ার ১৪ শতাংশ সাফ কাওলা জমি দখল করে রেখেছেন একই গ্রামের মৃত প্রফেসর আব্দুর রহমানের ছেলে আল আসাদ মাস্টার—এমন অভিযোগ করেছেন জমির মালিক ও তার পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বড় বাট্টা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আলা উদ্দিন মিয়ার ছেলে মোঃ ফারুক মিয়ার নামে ওই জমিটি দীর্ঘদিন ধরে সাফ কাওলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। তবে গত কয়েক বছর আগে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি দখল করে সেখানে বড় আকারের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন আল আসাদ মাস্টার।
স্থানীয়দের দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এই জমি দখল করা হয়। ফারুক মিয়া বিএনপি সমর্থিত হওয়ায় দীর্ঘদিন নিজ এলাকায় অবস্থান করতে পারেননি এবং বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করতেন। তার এই অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে আল আসাদ মাস্টার জমিটি দখল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে জমি দখলের খবর পেয়ে ফারুক মিয়া দ্রুত ঢাকা থেকে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই সালিশে আল আসাদ মাস্টারসহ তার সহযোগীরা ভুল স্বীকার করেন বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
সালিশ বৈঠকে নাকি সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দখল করা জমির পরিবর্তে অন্য পাশে সমপরিমাণের চেয়েও বেশি জমি ফারুক মিয়াকে দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি ফেরত না দিয়ে উল্টো বিভিন্ন মামলা দায়ের করে ফারুক মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। তারা স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বললে অনেকেই বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিকবার গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু পরে সেই মীমাংসার সুযোগ নিয়েই আল আসাদ মাস্টার ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জমির মালিক মোঃ ফারুক মিয়া ও তার পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে জমি দখলমুক্ত করা এবং তাদের ওপর চলমান হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আল আসাদ মাস্টারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ন্যায়সঙ্গত সমাধান না হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।