নলডাঙ্গায় বিএনপির ঘাঁটিতে জামায়াত হানা দিচ্ছে

নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধি:

নাটোরের নলডাঙ্গায় বিএনপি ঘাঁটিতে ভাগ বসিয়েছে জামায়াত। এই উপজেলায় বরাবরই বিএনপির দাপট ছিল। কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় জয়লাভ করেছে, যা আগে বিএনপির ঘাঁটি ছিল।

অনেকে বলছেন, দলের দাপটে কথিত ও নামধারী বিশৃঙ্খল নেতাকর্মীরা সাধারণ জনগণের উপর চড়াও হচ্ছে, দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের অবজ্ঞা করছে, কিছু নেতাকর্মীর একক আধিপত্য বিরাজ করছে, আইন-নিয়ম-শৃঙ্খলা বিষয়ে অজ্ঞতা বিরাজ করছে। এছাড়া দলে গোপনে হাইব্রিড ও তেলবাজদের অবস্থান, দীর্ঘদিন কোণঠাসা থাকার কারণে নির্বাচনের মাঠ গোছাতে বেগ পেতে হয়েছে বিএনপিকে। ফলে এখানে দলটি একক আধিপত্য হারাচ্ছে।

এশিয়ান টিভি ও মানবজমিন পত্রিকার নলডাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“সরেজমিনে ও বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সংসদ নির্বাচনের পর হাইব্রিড ও অতিউৎসাহী নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগত বিষয় বা শত্রুতাকে নির্বাচন/রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তৈরি করে সাধারণ ভোটারদের উপর চড়াও হচ্ছে। তারা বিদ্বেষমূলক কাজ, লাঞ্চিত ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত হওয়ায় তৃণমূলে বিএনপির অবস্থান নড়বড়ে হচ্ছে। অন্যদিকে অন্যান্য দলগুলো এই ইস্যুগুলোকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।”

এদিকে বিএনপির নাটোর-২ সদর আসনের নেতৃবৃন্দ ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান,
“সকল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে বিশেষভাবে বিনয়ের সহিত অনুরোধ করা হচ্ছে, কোনো প্রকার হঠকারী সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবে না এবং জামাতসহ কোনো সংগঠনের নেতাকর্মীর উপর চড়াও হওয়া যাবে না। কোনো বিদ্বেষমূলক কাজ বা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকলে এমপি সাহেবের নির্দেশক্রমে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম ডাবলু জানান, ইতিমধ্যে উপজেলার পিপরুলের শ্যামনগর, বাঁশভাগ পূর্বপাড়া, সূর্যবাড়ি, ব্রহ্মপুরে সরকুতিয়া, মাধনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় উৎশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের দ্বারা সাধারণ ভোটারদের লাঞ্চিত ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বাঁশভাগ পূর্বপাড়া মারামারির ঘটনায় যুবদল থেকে দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য এলাকায় সাধারণ লোকদের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যার ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে দল থেকে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তৃণমূলে বিএনপির অবস্থান ক্ষয় পাচ্ছে।

বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনার বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নুরে আলম বলেন,
“নলডাঙ্গা থানা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সব সময় সতর্ক রয়েছে। ইতিমধ্যেই বাঁশভাগ পূর্বপাড়ায় মারামারির ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *