মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
‘জ্ঞানেই মুক্তি, আগামীর ভিত্তি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের আয়োজনে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে পালিত হয়েছে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস–২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র্যালি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, পাঠক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান এস এম জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বর্ণাঢ্য র্যালি ও ফিতা কাটার মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আলমগীর হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, বর্তমানে আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। প্রযুক্তিকে ধারণ করা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সম্পূর্ণভাবে এর ওপর নির্ভরশীল হওয়া থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। কারণ, প্রকৃত মেধা বিকাশের জন্য পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, পাঠাগারের মাধ্যমে সমাজে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা এবং জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালনের মূল সার্থকতা।
এরপর আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আতিকুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সদস্য সচিব, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ।
এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন কাব্যছন্দ সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা পাঠাগার, নারায়ণগঞ্জ—এর সভাপতি ও সাংবাদিক মোঃ শফিকুল ইসলাম আরজু। বক্তারা তাদের বক্তব্যে পাঠাগার আন্দোলনকে আরও বেগবান করা, নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। পুরস্কার বিতরণী পর্বে বিজয়ীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারের কর্মকর্তা—কর্মচারীরা, গ্রন্থাগার কর্তৃক নিবন্ধিত পাঠাগারসমূহের সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ও গুণীজন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবৃত্তি শিল্পী ইমরুল কায়েস।