স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনের জনগণ এবার সামনে দেখতে চাইছেন এক নিরাপদ, সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত, ঐক্যবদ্ধ, শান্তিময় এবং উন্নয়ন-সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম-১৫। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে নাদিম চৌধুরী এগিয়ে আছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ব্যাপক সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় উন্নয়নে অবদানের কারণে তিনি এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
নাদিম চৌধুরী চট্টগ্রাম লোহাগাড়া থানার ঐতিহ্যবাহী কলাউজান মফিজুর রহমান মুন্সী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারের মুসলিম ঐতিহ্য এবং সৎচরিত্রের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া নাদিম চৌধুরী ছোট বয়স থেকেই সমাজ ও রাজনীতিতে মনোযোগী ছিলেন।
ঢাকা কলেজে পড়াশুনাকালে তিনি ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে নাদিম চৌধুরী প্রমাণ করেন যে, তিনি দেশের জন্য নিবেদিত একজন ত্যাগী নেতা। এরপর তিনি জননেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর নেতৃত্বে বৃহত্তর ঢাকা মহানগরের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দেন। সিদ্ধেশ্বরী ডিগ্রী কলেজে ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেশের যুবসমাজের জন্য দৃঢ় রাজনৈতিক আদর্শ স্থাপন করেন।
রাজধানী ঢাকার রমনা থানায় ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও পরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড এবং সরকারি অনিয়মের বিরুদ্ধে সাহসীভাবে লড়াই করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রমনা থানার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রদান করেন। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সহযোগিতায় আন্দোলন পরিচালনা করেন, যার মধ্যে ছিলেন মরহুম আব্দুল মতিন চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজ, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন প্রমুখ।
রাজধানী ঢাকায় প্রায় ৪০ বছর বসবাসকালে নাদিম চৌধুরী স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং রাস্তা-ঘাট উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি সাবেক চট্টগ্রাম-১৪ (বর্তমান চট্টগ্রাম-১৫) এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন। এই সময়ে স্থানীয় এলজিইডি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে, তিনি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এছাড়া তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ফ্যান ক্লাবের সভাপতি, বেঙ্গল হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল (BHRI) মানবাধিকার সংগঠনের ভাইস-চেয়ারম্যান, ভাসানী স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ও সভাপতি, এবং ভাসানী স্মৃতি সংসদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর অবদানও বিস্মরণীয়। তিনি সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদে ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মিসেস হামিদা আলীকে উপদেষ্টা নিয়োগ করে বিদ্যালয়ের হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া তিনি বেইলি রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষার জন্য সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে সাহসী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।
রাজনৈতিক সংগ্রামে তার ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিগত ১৭ বছর তিনি দলের সকল আন্দোলন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। নিজ গ্রাম কলাউজান বাজার, ঢাকা রমনা এলাকা, পল্টন বিএনপি অফিস, বকশিবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে তিনি আন্দোলন নেতৃত্ব দেন। এই সময়ে তিনি ১৪–১৫ বার গ্রেফতার হন এবং প্রায় ৬ বছরের বেশি কারা নির্যাতন ভোগ করেন।
তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের জনপ্রিয় নেতা এবং সামাজিক, শিক্ষামূলক ও মানবাধিকার আন্দোলনের অগ্রণী। ৩য় কর্ণফুলী সেতু বাস্তবায়ন, কক্সবাজার–দোহাজারী ট্রেনলাইন ও চুনতি ট্রেন স্টেশনের বাস্তবায়ন কমিটিতে তিনি উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ৬ লাইন আন্দোলন কমিটির উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি জনগণের সুবিধার্থে সক্রিয়।
নাদিম চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো সত্যনিষ্ঠা, ত্যাগ, ধৈর্য ও স্থায়িত্ব। তিনি সর্বদা দেশের সংকটে সম্মুখ সারিতে থেকে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিএনপির প্রতি তার আনুগত্য এবং দলের মূল আদর্শের প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি তাকে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনে একজন বিশিষ্ট ও বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে পরিচিত করেছে।
এছাড়াও তিনি একজন সদা প্রস্তুত সমাজসেবী ও মানবাধিকারকর্মী, যিনি মৎস্যজীবী, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয়। বাংলাদেশের লাখো নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষ তাঁর নেতৃত্বের কাছে সমর্থন পান। স্থানীয় জনগণ তাঁকে মডেল নেতা, অভিভাবক ও উন্নয়নকামী নেতা হিসেবে মান্যতা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের মানুষ আশা করছেন যে, নাদিম চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের এলাকা হবে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত, শান্তিময়, ঐক্যবদ্ধ, আলোকিত ও সমৃদ্ধ। তিনি স্থানীয় জনগণ, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন।
নাদিম চৌধুরী একজন সদা সক্রিয়, সাহসী, দক্ষ ও অনুপ্রেরণামূলক নেতা, যিনি দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) এলাকায় উন্নয়নের পথপ্রদর্শক হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে এলাকার মানুষ দেখতে পাবেন একটি আধুনিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম-১৫।
সারসংক্ষেপে, নাদিম চৌধুরী শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি একজন সমাজসেবক, শিক্ষাপ্রেমী, মানবাধিকারকর্মী, উদ্যমী সংগঠক ও উন্নয়নমুখী নেতা। চট্টগ্রাম-১৫ এর জনগণ তাঁকে নিজেদের সেবক ও অভিভাবক হিসেবে পেতে চায়, যাতে এলাকা গড়ে উঠতে পারে মডেল উন্নয়ন, শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে।
নাদিম চৌধুরী এর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড দেশের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) একটি আধুনিক, সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ এবং উন্নয়নমুখী এলাকা হিসেবে পরিচিত হবে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ও সমর্থন নিশ্চিত করেছে যে, নাদিম চৌধুরী এই আসনের জন্য আদর্শ প্রার্থী।