নারায়ণগঞ্জকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করতে কাজ করবো: মুস্তাফিজুর রহমান

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাপ্য ছিল; এটা নারায়ণগঞ্জবাসীর বিজয়। নারায়ণগঞ্জবাসী সকলে একসাথে মিলে অর্জন করতে পেরেছি। রাজউক থেকে আলাদা হয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী সম্মানের জায়গায় চলে আসছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এবং মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই এত তাড়াতাড়ি সাড়া দেয়ার জন্য।”

শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া চাঁদমারিতে চেম্বার ভবনে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন হওয়ায় তাকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হওয়াতে ব্যবসায়ীরা রাজউকের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, ব্যবসায়ী নেতারা সকলে মিলেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। সকলে মিলে আমরা একটি সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলবো। রাজউক অনেক বড় সংস্থা। তারা অনেক ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ রাজউকের আন্ডারে থাকলে যে পরিমাণ জনবল প্রয়োজন সেটা ছিল না। নারায়ণগঞ্জ কর্তৃপক্ষ হওয়াতে রাজউকের থেকে আমরা আরও বেশি সহযোগিতা পাবো।”

তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জবাসী অবহেলিত ছিল। সরকারি জমিগুলো উদ্ধার করে খেলার মাঠ করার জন্য। রাস্তা দখল করে রাখা হয়েছে। প্ল্যান ছাড়া বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে বাড়িগুলো যেন সুন্দরভাবে হয় এটা নারায়ণগঞ্জ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করবে। হাউজিং কমপ্লেক্স করছে। এ সকল কমপ্লেক্সগুলো যখন অনুমোদন দেওয়া হয় তখন নাগরিক সুবিধার জন্য তাদের বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হয়। কিন্তু এ সকল শর্ত তারা মানে না। তারা কৃষিজমি দখল করে ফেলছে। নারায়ণগঞ্জ কর্তৃপক্ষ থাকলে আমরা এ সকল বিষয় থেকে মুক্ত থাকবো।”

নারায়ণগঞ্জকে ‘এ’ ক্যাটাগরি হিসেবে রূপান্তর করতে হবে উল্লেখ করে দিপু বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য বিধিনিষেধ জারি করেছিলো। শুধুমাত্র ঢাকাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছিলো। যেটা নারায়ণগঞ্জবাসীকে আরও বেশি অবহেলিত করেছিলো। নারায়ণগঞ্জকে সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলবো। নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ব্যবসায়ী সংগঠন। ব্যবসার সাথে আমরা যদি মানুষের কল্যাণে না আসতে পারি শুধুমাত্র ব্যবসা করে নিজের পকেট ভরলে সার্থকতা থাকে না। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ বি ক্যাটাগরির জেলা। এটা নারায়ণগঞ্জের জন্য অপমান। আমরা নারায়ণগঞ্জকে এ ক্যাটাগরির জেলা করতে চাই।”

শহরের যানজট দূর করা ও লিংক রোডে ফুটওভার ব্রিজের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চাষাঢ়া মোড়ে কিছু সরকারি জায়গা আছে যেটা একটা সংস্থার কাছে রয়েছে। তাদের সাথে কথা হয়েছে তারা রাজি হয়েছে এই জায়গাটা ছেড়ে দেবে। চাষাঢ়ার যানজট যেন দূর করা যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলে একসাথে মিলে চেষ্টা করবো। আমি ফুটওভার ব্রিজের জন্য সড়ক বিভাগের সাথে কথা বলেছি। এগুলো ছোট কাজ কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় ভ্যাট দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। যাতে কোনো রকমের চাপ প্রয়োগ করা না হয় সে লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যারা নতুন করে ব্যবসা করতে আসছেন তাদের যেন লোনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা যায় আমরা সরকারের সাথে কথা বলছি। আশা করছি নারায়ণগঞ্জকে আমরা সুন্দর ও পরিপূর্ণ শহর হিসেবে রূপান্তরিত করতে পারবো। আমরা নারায়ণগঞ্জের সফলতা দেখতে পাব।”

জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনডিএ) অধ্যাদেশ অনুমোদন হওয়ায় ১১-৪-২৬ শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জেলার পরিকল্পিত উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভা শেষে এনডিএ অধ্যাদেশ অনুমোদন হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে ফুলেল সংবর্ধনা জানান বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি এম সোলায়মান, চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল, সহ-সভাপতি আবু জাফর, পরিচালক মো. সোহাগ, আহমেদুর রহমান তনু, রিয়াদ চৌধুরী, গোলাম সারোয়ার সাঈদসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *