নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর হাইওয়েতে টিআই বিষ্ণুর বিরুদ্ধে মাসোহারা বাণিজ্যের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: 

৫ই আগস্টের পর সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল যে বাংলাদেশ বদলে যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, কিছু ক্ষেত্রে এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তবে বর্তমানে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলছেন, তাতে জাতি আশা করতেই পারে যে বাংলাদেশ অবশ্যই বদলাবে। বাংলাদেশ হবে মাদক, চাঁদাবাজ ও নৈরাজ্যমুক্ত একটি দেশ। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী ভোরে অফিস শুরু করেন এবং দেশের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেন, সে দেশ উন্নত হতে বাধ্য। বর্তমানে যেভাবে রাস্তাঘাট পরিষ্কার এবং হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে, তাতে মানুষ স্বপ্ন দেখছে যে ঢাকা একদিন লন্ডনের মতো পরিচ্ছন্ন হবে। এখনো যেসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে আছেন, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আসতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষের সবচাইতে বড় কষ্টের জায়গা হলো যানজট। এই যানজটের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আর এই যানজট নিরসনে যারা নিয়োজিত, তারা যদি নিজেই দুর্নীতিবাজ হন, তবে মানুষের ভোগান্তি শেষ হওয়ার নয়।

অভিযোগের বিস্তারিত:

নারায়ণগঞ্জ জেলার সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত দায়িত্বরত টিআই (ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) বিষ্ণুর বিরুদ্ধে ব্যাপক মাসোহারা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে: বেঙ্গল পরিবহন জালিয়াতি: ঢাকা টু কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী ‘বেঙ্গল পরিবহন’-এর একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক গাড়ি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। বাধ্যতামূলক চাঁদা: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ড্রাইভার ও কোম্পানির ম্যানেজার জানিয়েছেন, টিআই বিষ্ণুকে মাসোহারা না দিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালানো অসম্ভব। অবৈধ পার্কিং বাণিজ্য: রাস্তার দু-পাশে পার্কিং করা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান থেকে মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিপুল সম্পদ: সূত্রমতে, এই পুলিশ কর্মকর্তার নামে-বেনামে প্রচুর অবৈধ সম্পদ রয়েছে যা তার আয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।

অভিযুক্তের বক্তব্য: এই বিষয়ে টিআই বিষ্ণুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি একজন ভালো মানুষ, আমি কোনো অন্যায় করি না।”

ভুক্তভোগীদের দাবি: তবে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের মতে, টিআই বিষ্ণুর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং তার বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের লেনদেন তদন্ত করলেই তার অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যাবে। সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *