মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (০৬ এপ্রিল ২০২৬) দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে একাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি চুন ফ্যাক্টরির ভাট্টি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, প্রথম ঘটনায় বন্দর এলাকার একটি চুন ফ্যাক্টরি ও সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে ২টি ভাট্টি বিশিষ্ট একটি চুন ফ্যাক্টরি বাণিজ্যিক কাজে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করছিল। একই সঙ্গে আবাসিক শ্রেণির আওতায় থাকা প্রায় ১০০টি চুলায় অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। অভিযানে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং পৃথক দুটি মামলায় মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও একটি বড় চুন ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়, যেখানে ৪টি ভাট্টির মাধ্যমে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রায় ৮ হাজার ঘনফুট প্রতি ঘণ্টা লোডে গ্যাস ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। এ সময় অবৈধ গ্যাস বিতরণ লাইনের উৎস চিহ্নিত করে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ (কিলিং) করা হয়।
এছাড়া এক্সকাভেটর ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ফ্যাক্টরিটির সব ভাট্টি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা না যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
অভিযানটি পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সুনিম সোহানা। পুরো কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয় করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রায়হান কবির।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ শুধু রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতিই করে না, বরং এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও সৃষ্টি করে। তাই জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ সংযোগ ও জ্বালানি অপচয় অনেকাংশে কমে আসবে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটবে।