সুলতান মাহমুদ:
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী ও জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমীকে বড় অংকের জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে টাকা বিতরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ঘটনার সূত্রপাত
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘লিটল জিনিয়াস স্কুল’-এর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। অনুষ্ঠান চলাকালীন তাকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের পাশাপাশি নগদ অর্থ তুলে দিতে দেখা যায়। এই অর্থ বিতরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, যা নিয়ে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
প্রার্থীর বক্তব্য
টাকা বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে মুফতি মনির হোসেন কাসেমী মুঠোফোনে জানান, তিনি কেবল আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন:
“স্কুল কর্তৃপক্ষ বিজয়ীদের জন্য যে পুরস্কার ও অর্থ বরাদ্দ রেখেছিল, আমি কেবল অতিথি হিসেবে তা তাদের হাতে তুলে দিয়েছি। এটি আমার ব্যক্তিগত কোনো অর্থ নয় বা নির্বাচনী প্রচারণার অংশও নয়।”
নির্বাচন কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থান
তবে প্রার্থীর এই ব্যাখ্যা আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী ভোটের তফসিল ঘোষণার পর কোনো প্রার্থী কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেন না এবং কোনো প্রকার আর্থিক অনুদান বা উপঢৌকন দিতে পারেন না। এটি স্পষ্টতই আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।
আইনি পদক্ষেপ
ঘটনাটি নজরে আসার পরপরই তদন্ত শুরু করে জেলা প্রশাসন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হান কবির জানান, নির্বাচনী বিধিমালা অমান্য করার অপরাধে অভিযুক্ত প্রার্থীকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণা চলাকালে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই একে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।