মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় অভিযান চালিয়ে একটি লুন্ঠিত শটগান উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, আড়াইহাজার থানা এবং পুলিশ লাইন্স থেকে কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব লুন্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার নবাগত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী মহোদয় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে থানা থেকে লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য সকল থানার অফিসার ইনচার্জদের সরাসরি নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্দেশনার আওতায় আড়াইহাজার থানার পুলিশ প্রশাসন বিশেষ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ৬.৪৫ ঘটিকায় আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব খন্দকার নাসির উদ্দিন এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশ নেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জনাব মোঃ সাইফ উদ্দিন ও সঙ্গীয় ফোর্স। অভিযানটি আড়াইহাজার পৌরসভাস্থ নির্বাচন অফিসের সামনে, পৌরসভা পুকুরের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে ঝোপঝাড়ের ভিতরে পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানে শটগান উদ্ধার করা হয়েছে যার বাট নং-৮৪৪, বডি নং-৯৭৩১-২০১২ এবং ‘Made in Turkey’ লেখা রয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি বিধি মোতাবেক আড়াইহাজার থানার জিডি নং-১৫৪৬, তারিখ-৩০/১১/২০২৫ খ্রিঃ অনুযায়ী জব্দতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই শটগানটি ৫ আগস্ট ২০২৪ খ্রিঃ আড়াইহাজার থানার লুন্ঠিত অস্ত্র তালিকায় ছিল।
পুলিশ জানায়, অভিযান চলাকালীন সময়ে স্থানীয়দের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইতোমধ্যে যারা লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য প্রদান করেছেন, তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং বিশেষভাবে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ আশা করছে, স্থানীয়দের আরও সহযোগিতা পেলে লুন্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কাজ আরও দ্রুত এবং সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা পুলিশ বলেছে, এই ধরনের অভিযান মূলত জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং অবৈধ অস্ত্র চলাচল রোধ করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। পুলিশ সুপার মুন্সীর নেতৃত্বে আড়াইহাজার থানার কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালাচ্ছেন এবং অভিযান চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে, স্থানীয় মানুষ এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় লুন্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হওয়ার ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময় থেকে আড়াইহাজার থানার পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অস্ত্র উদ্ধারের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। সম্প্রতি সফল এই অভিযানের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি ফিরে এসেছে এবং পুলিশ বাহিনীর প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে গোপন সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া গেলে অবিলম্বে তা থানা পুলিশকে জানাতে হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পুরস্কার নিশ্চিত করা হবে।
এ ধরনের অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ফলাফল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ভবিষ্যতেও অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার দেবে।