মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৫৬ জন প্রার্থীর জমা দেওয়া ৫৭টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৩৬টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একাডেমিক ও প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই শেষে ১৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল এবং চারটি স্থগিত রাখা হয়েছে।
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি জানান, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী আপিল করার সুযোগ রয়েছে। স্থগিত রাখা চারটি মনোনয়নপত্রের বিষয়ে বিকেলের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
নারায়ণগঞ্জ-১:
এ আসনে মোট ছয়টি মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও চারটি বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দুলাল হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকার কারণে। অপর প্রার্থী মনিরুজ্জামান চন্দনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকার জন্য।
নারায়ণগঞ্জ-২:
মোট ১০টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে তিনটি বৈধ, চারটি বাতিল এবং তিনটি স্থগিত রাখা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আবু হানিফ হৃদয়ের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ঋণখেলাপির কারণে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল আউয়াল ও মিজানুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর অসম্পূর্ণ থাকার কারণে। এছাড়া হলফনামা সঠিক না থাকা ও প্রস্তাবক-সমর্থকের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকার কারণে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাবিবুল্লাহর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, জামায়াতে ইসলামের ইলিয়াস মোল্লা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুল ইসলামের মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে আয়কর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে।
নারায়ণগঞ্জ-৩:
এ আসনে ১১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১০টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক রেজাউল করিমের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে অসম্পূর্ণ হলফনামা দাখিলের কারণে।
নারায়ণগঞ্জ-৪:
মোট ১৫টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে নয়টি বৈধ, পাঁচটি বাতিল এবং একটি স্থগিত রাখা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আরিফ ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয় তথ্য গোপন ও অসম্পূর্ণ হলফনামা দাখিলের কারণে। একই কারণে ইকবাল হোসেন ও সেলিম আহমেদের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন খোকার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তিতাস গ্যাস বিল পরিশোধ না করার কারণে। সদর উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনিরের মনোনয়নপত্রও ভোটারের স্বাক্ষর অসম্পূর্ণ থাকায় বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক সাংসদ ও রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫:
এ আসনে ১২টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে আটটি বৈধ এবং চারটি বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকার কারণে। দলীয় মনোনয়নপত্র না থাকায় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু জাফর আহমেদ বাবুলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া তথ্য গোপনের অভিযোগে নাহিদ হোসেনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, জেলায় ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পাঁচজন ইলেক্টোরাল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে ভোটারদের আস্থা বজায় থাকে।