নারায়ণগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ীতে চাঁদাবাজি ও ট্রাফিক পুলিশের শাসনে আতঙ্ক

রাজধানী ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ নগর নারায়ণগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় লেগুনা পরিবহন চালকরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চাঁদাবাজদের নিকট জিম্মি হয়ে আছে। প্রতিটি লেগুনা থেকে ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ এবং লাইনম্যানদের নামে চাঁদা আদায়ের ফলে সাধারণ চালক ও মালিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি লেগুনা পরিবহন থেকে নারায়ণগঞ্জ ও ওয়ারী ট্রাফিক পুলিশের নামে মাসে এক হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। এছাড়া সিদ্ধরগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশদের নামে মাসে ৫০০ টাকা এবং লাইনম্যানদের প্রতি গাড়িতে ৪০ টাকা করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। এই চাঁদাবাজি দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকায় এলাকার মানুষ দৈনন্দিন জীবনযাপনেও শঙ্কিত।

স্থানীয় একজন লেগুনা ড্রাইভার জানান, “বছর কয়েক আগে ৫ আগস্টের পর আশা করা হয়েছিল চাঁদাবাজি বন্ধ হবে। কিন্তু আজও আমাদের উপর দমন-নিপীড়ন চলছেই। চাঁদা দিতে না পারলে নানারকম হয়রানি, প্রহার, এমনকি প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটছে।”

সাম্প্রতিক ঘটনা আরও উদ্বেগজনক। যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক লেগুনা ড্রাইভারকে চাঁদা না দেওয়ায় হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করছেন যে, চাঁদাবাজি ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের নীরবতার কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছে।

স্থানীয় পরিবহন মালিকরা জানান, “চাঁদাবাজি না দিলে আমাদের গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয়, আবার চাঁদা দিতে দিতে আমাদের আয় প্রায় শূন্যের দিকে চলে আসে। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, সামাজিক অবক্ষয়ও ঘটাচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারায়ণগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় চাঁদাবাজি ও পুলিশি ভূমিকার এমন পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাবে দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। তাদের মতে, লেগুনা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন পরিচালকদের উপর এই অতিরিক্ত চাপ সাধারণ জনগণ ও শহরের সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থার জন্য হুমকি।

এই পরিস্থিতিতে, এলাকার সচেতন নাগরিকরা দাবি করছেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে চাঁদাবাজদের খুঁজে বের করা এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা আরও বলেন, “যেখানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নামে চাঁদা আদায় হয়, সেখানে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদে চলাচল করবে?”

পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে যে, চাঁদাবাজি শুধু অর্থ আদায়েই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে হিংসা ও হত্যাকাণ্ডও জড়িত। এটি নগরবাসীর নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য এক বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লেগুনা ড্রাইভাররা প্রতিনিয়ত চাঁদা দেওয়ার জন্য ভয় পেয়ে বসে থাকে। অনেকে বলছেন, “আমরা চাঁদা দিতে না পারলে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু চাঁদা দেওয়ার পরও কখনো কখনো হয়রানি থামেনা।”

এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে, নারায়ণগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ীর সাধারণ মানুষ আরও অনিরাপদ হয়ে পড়বেন। নগরবাসীর দাবি, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটানো এখন অতি জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *