নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, ‘হেভিওয়েট’ লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী: 

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। একসময় দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস থাকলেও এখন এই আসনের লড়াই রূপ নিয়েছে বহুমুখী ও ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে। সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান করার ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সমীকরণে যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু হানিফ হৃদয় বলেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী একটি অনন্য নাম। তিনি বলেন, “শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান কিংবা বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা—যেই হোন না কেন, বিভিন্ন প্রয়োজনে সবাই মোহাম্মদ আলীর কাছে এসেছেন। তিনি কখনো কারো দালালি করেননি; বরং দলমত নির্বিশেষে মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে কাজ করেছেন।”

আবু হানিফ হৃদয় আরও জানান, খুব শিগগিরই দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মোহাম্মদ আলীকে রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে। তার মতে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক বড় নেতা যেখানে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারেননি, সেখানে মোহাম্মদ আলীর একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে আসা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এবারকার নির্বাচন ঘিরে বিএনপির ভেতরেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের জটিলতা। সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী বিএনপি থেকে এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও জোটগত সিদ্ধান্তে দল থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ দেখা দেয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে।

এরই ধারাবাহিকতায় এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, মোহাম্মদ আলী, গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলম—এই তিনজনই সাবেক বিএনপি নেতা এবং এলাকায় প্রত্যেকেরই উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন রয়েছে। ফলে জোট প্রার্থীকে ঘিরে তাদের অংশগ্রহণ নির্বাচনী লড়াইকে আরও উত্তেজনাকর করে তুলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমার প্রতিদ্বন্দ্বীরা সবাই ভালো মানুষ। তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে তারা কেউ আমার ধারে কাছে নেই। আমি সাতটি ইউনিয়নে মানুষের জন্য কাজ করেছি, মানুষের ভালোবাসাই আমার শক্তি।”

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা নাকচ করে তিনি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত হলে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল এবং নারায়ণগঞ্জকে আধুনিক বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই হবে তার অগ্রাধিকার।

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আছে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমি নির্বাচনে ছিলাম, আছি এবং শেষ পর্যন্ত থাকবো।”

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর বিপরীতে তিনজন ‘হেভিওয়েট’ সাবেক বিএনপি নেতার অংশগ্রহণ এই আসনকে সারা দেশের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরিণত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *