নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহের ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রহস্যজনকভাবে গভীর রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রেখে দাপ্তরিক কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। অফিস সহকারী চন্দনা পণ্ডিত ও মোহরার নাজমা আক্তারের অনুপস্থিতিতে সকল কক্ষের তালা খুলে স্পর্শকাতর নথিপত্র নাড়াচাড়া ও কাজ করার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, রাতে ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্টারের কার্যালয়ে বরাদ্দকৃত কক্ষে আলো জ্বলতে দেখা যায়। অথচ ওই সময় সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ উঠেছে, তাদের অনুপস্থিতিতে অফিসের ভেতরে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে কাজ করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর অফিস খোলা রাখার বিধান না থাকলেও, এখানে প্রায়ই রাতে পর্দার আড়ালে কার্যক্রম চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সহকারী ও মোহরারের অনুপস্থিতিতে অন্য কোনো অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্তরা কক্ষ ব্যবহার এবং নথিপত্র দেখা আইনত দণ্ডনীয়। মনে করা হচ্ছে, বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য হাসিল বা নির্দিষ্ট কোনো দলিলের কাজ সম্পন্ন করতেই রাতের এই গোপনীয়তা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি একটি স্পর্শকাতর দপ্তরে রাতের আঁধারে এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ দলিলগ্রহীতা ও স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, এর পেছনে কোনো বড় ধরনের জালিয়াতি বা অবৈধ লেনদেনের যোগসূত্র থাকতে পারে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মোহরার নাজমা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার কক্ষ খোলার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে সহকারী চন্দনা পণ্ডিত রাতে অফিস খোলা রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে দাবি করেন, কাজের চাপ বেশি থাকায় তিনি কাজ করছিলেন। মোহরারের অনুপস্থিতিতে তার কক্ষে প্রবেশের অনুমতি বা যৌক্তিকতা বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রার ওমর ফারুক জানান, “অফিস সময়ের বাইরে বা রাতে কাজ করার কোনো নিয়ম নেই। অফিস কক্ষে অন্য কারো প্রবেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”