নির্যাতন সহ্য ও ত্যাগের জন্য খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক নোবেল পুরস্কারের দাবিদার—মনির হোসেন কাশেমী

সুলতান মাহমুদ:

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ফতুল্লা থানা কৃষক দলের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থ শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্রও বিতরণ করা হয়।

রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার পশ্চিম মাসদাইর পাঁচতলা মোড় এলাকায় এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুফতি মনির হোসেন কাশেমী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বারী ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, এনায়েত নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আলমগীর হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়ত ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি জোরদারের আহ্বান জানান।

বক্তব্যে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, এ দেশের মানুষের আস্থার জায়গা ছিলেন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, “২০১৮ সালে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গডফাদার হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে কেউ সাহস করেননি। তখন বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে মাওলানা মুফতি মনির হোসেন কাশেমী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। এর ফলস্বরূপ তাকে চার বছর কারাভোগ করতে হয় এবং জেলখানায় নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়।”

এডভোকেট বারী ভূইয়া বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি এরশাদ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো আপোষ করেননি এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, “বিএনপি কর্মীরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে মনির হোসেন কাশেমীকে বিজয়ী করতে প্রস্তুত।”

ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, গণতন্ত্র যখনই বিপন্ন হয়েছে, তখনই বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির বহু নেতাকর্মী গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই—এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুফতি মনির হোসেন কাশেমী বলেন, আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে পরিমাণ নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক নোবেল পুরস্কারের দাবিদার। তিনি বলেন, “এই নারায়ণগঞ্জ থেকেই তার জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি তুলতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট দিলে তা ধানের শীষের ভোট হিসেবে গণ্য হবে। “আমি নির্বাচিত হলে তারেক রহমান লাভবান হবেন, বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে,”—বলেন তিনি।

ফতুল্লা থানা কৃষক দলের আহ্বায়ক জুয়েল আরমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সুমন আহম্মেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া পরিচালনা করা হয় এবং অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *