নার্গিস নূরী খান পাঠান:
নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের বিয়া রালী গ্রামের মোঃ মইন উদ্দিনের মেয়ে মোছাঃ অন্জুনা আক্তারকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি তার দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের ষোল পাই গ্রামের মোঃ সুরুজ আলীর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন মাজারে যাতায়াতের সূত্রে অন্জুনা আক্তারের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সাক্ষাতের কথা বলে জাহাঙ্গীর আলমকে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে আটকে রেখে তাকে জোরপূর্বক বিয়েতে বাধ্য করা হয়। এরপর কিছুদিন তাদের সংসার জীবন চলতে থাকে।
তবে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষের দাবি, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে অন্জুনা আক্তারের আগে আরও একটি বিয়ে হয়েছিল এবং পূর্বের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, আগের স্বামীর কাছ থেকেও মোটা অংকের টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয় সামনে আসার পর জাহাঙ্গীর আলম সেখান থেকে চলে আসেন বলে তার স্বজনরা জানান।
অন্যদিকে অন্জুনা আক্তার আদালতে মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এলাকাবাসীর একাংশ অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট পরিবারের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর কেউ কেউ আরও দাবি করেন, প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জেলা পুলিশ সুপার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।