নেত্রকোনায় মা-ছেলে একই বিরল টিউমারে আক্রান্ত — চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুঝুঁকিতে অসহায় পরিবার

নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার অতিথপুর গ্রামের এক কোণে জরাজীর্ণ একটি কুঁড়েঘরে দিন কাটছে কাজল মিয়া (২২) ও তার মা শাহানা খাতুনের (৪৫)। মা-ছেলে দুজনই আক্রান্ত হয়েছেন এক বিরল ও ভয়াবহ টিউমারে—যা ধীরে ধীরে কেড়ে নিচ্ছে তাদের স্বাভাবিক জীবন, এমনকি বেঁচে থাকার আশা পর্যন্ত। চিকিৎসার অভাবে আজ তারা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন নীরবে।

জন্মের সময় কাজলের মুখে ছিল ছোট একটি টিউমার। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটি বাড়তে বাড়তে এখন তার এক চোখ ও মুখ পুরোপুরি ঢেকে ফেলেছে। মুখের নিচে ঝুলে পড়েছে বিশাল মাংসপিণ্ড, যার কারণে খাওয়া-দাওয়া করতেও কষ্ট হয়, আর এক চোখে দেখতে পান না। বিকৃত মুখের কারণে গ্রামের তরুণেরা এখন তার সঙ্গে মিশতেও চায় না—একাকীত্ব যেন তার নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

কাজলের মা শাহানা খাতুনও একই রোগে আক্রান্ত। গালের পাশ থেকে শুরু হওয়া টিউমার এখন বুক পর্যন্ত বিস্তৃত। শরীরজুড়ে দেখা দিয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গুটি। রোগের যন্ত্রণায় দিনরাত কাতরাচ্ছেন তিনি।

দুজনকেই নিয়ে দিশেহারা দিনমজুর মিরাজ আলী, যিনি সামান্য দৈনিক মজুরির টাকায় সংসার চালাতেই হিমশিম খান। এমন অবস্থায় এই জটিল রোগের চিকিৎসা করানো তার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। ফলে চিকিৎসার অভাবে মা-ছেলের অবস্থা দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের আগেই শাহানা খাতুনের মুখে ছোট টিউমার ছিল, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বড় হয়ে ঝুলে পড়ে। পরে শরীরের বিভিন্ন অংশে গজিয়ে ওঠে ছোট-বড় টিউমার। তিন সন্তানের মধ্যে শুধুমাত্র মেঝো ছেলে কাজলই মায়ের মতো এই ভয়াবহ টিউমারে আক্রান্ত হয়েছেন। বাকিদের শরীরে এখন পর্যন্ত কোনো টিউমার দেখা যায়নি।

গ্রামবাসীর সহায়তায় কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। কিন্তু দারিদ্র্য, সমাজের অবহেলা আর চিকিৎসার অভাবে দিন দিন কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, সরকার বা কোনো মানবিক সংস্থা যদি দ্রুত তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেয়, তবে হয়তো এই মা-ছেলেকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *