মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জে পরিবেশদূষণ ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে সদর উপজেলায় অবস্থিত তিনটি পরিবেশদূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সুহা তাবিলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠান শিল্প কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এতে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছিল। একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে জেলা পুলিশ, ডিপিডিসি এবং পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযানকালে সদর উপজেলার তিনটি অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক ও গ্যাস মিটার খুলে নেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে অবৈধভাবে পুনরায় সংযোগ নেওয়া সম্ভব না হয়।
সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— সদর উপজেলার ফতুল্লার ইদ্রাকপুর এলাকার জে কে ফ্যাশন (পূর্ব নাম কর্ণফুলি ডাইং), লাকি বাজার এলাকার মদিনা ডাইং এবং দৌলতপুর কুতুবপুর এলাকার শাহানা অ্যান্ড রুমা কনজ্যুমার প্রোডাক্টস।
এর মধ্যে লাকি বাজার এলাকার মদিনা ডাইংয়ের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা হয়। অপরদিকে ফতুল্লার ইদ্রাকপুর এলাকার জে কে ফ্যাশন এবং দৌলতপুর কুতুবপুর এলাকার শাহানা অ্যান্ড রুমা কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে আসছিল। কারখানাগুলোতে কোনো ধরনের ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) কার্যকরভাবে চালু ছিল না। ফলে অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি পরিবেশে নিঃসরণ হয়ে আশপাশের জলাশয়, মাটি ও বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছিল।
এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ নেই। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর আরও জানায়, নারায়ণগঞ্জ শিল্পঘন এলাকা হওয়ায় এখানে অবৈধ ও পরিবেশদূষণকারী কারখানার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এসব কারখানার বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ কারখানা, প্রকল্প ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে অভিযান জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়।
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত সব অবৈধ ও দূষণকারী কারখানার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।