ঢাকা রেশনিং তদারককারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ওএমএস চাল ও আটা স্বচ্ছভাবে বিক্রি হচ্ছে: এআরও শহিদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীতে ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমের মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রি নিয়ে পুরাতন এবং নতুন ডিলারদের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বে ডিলারদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হলেও, নতুন নিয়ম অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসে পুরাতন ডিলারদের বাদ দিয়ে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের কারণে আদালতে মামলাও হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষিতে, গরিব ও দু:স্থ মানুষের জন্য সরকারি কর্তৃপক্ষ সরাসরি চাল ও আটা বিক্রি করার ব্যবস্থা করেছে। ডিলারের মাধ্যমে বিক্রির সময় বেশিরভাগ খাদ্যপণ্য কালোবাজারির পথে চলে যাওয়ার অভিযোগ থাকলেও, বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরবরাহ হওয়ায় তা বন্ধ হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ কম দামে চাল ও আটা কিনতে পারছে এবং পণ্যগুলো এখন বাজারে কালোবাজারিতে যাচ্ছেনা।

ডি১—এর এআরও শহিদুল ইসলাম জানান, “বর্তমানে তদারককারী অফিসারদের মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রি হচ্ছে, যা অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই পদ্ধতির কারণে গরিব ও দু:স্থ মানুষ সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন।

সাধারণ মানুষেরা সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছে। একাধিক ভোক্তা জানান, “ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রির সময় আমরা প্রায়শই কমপক্ষে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে পণ্য কিনতে হত। এখন সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরাসরি বিক্রি হওয়ায় আমরা স্বাভাবিক দামে চাল ও আটা কিনতে পারছি, যা আমাদের জন্য বড় সাহায্য।”

 এক নারী ভোক্তা বলেন, “আগে ডিলারের মাধ্যমে চাল কিনতে হলে অনেক বেশি দাম দিতে হত। এখন সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিক্রি হওয়ায় আমরা সস্তায় চাল ও আটা কিনতে পারছি। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সাহায্য।”

এক তরুণ জানান, “কালোবাজারির কারণে আগে চাল-আটা পাইনি অনেক সময়। এখন সরাসরি সরকারি অফিসারদের মাধ্যমে বিক্রি হওয়ায় সবাই পণ্যের সুবিধা পাচ্ছে, বাজারে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।”

অন্য একজন বৃদ্ধা বলেন, “আমাদের মতো দুঃস্থ মানুষের জন্য এটি অনেক সহজ হয়েছে। আমরা দৈনন্দিন প্রয়োজন মতো চাল ও আটা কিনতে পারছি। সরকারের এই পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়।”

তবে পুরাতন ডিলারদের অভিযোগ, নতুন নিয়োগ ও সরাসরি বিক্রির পদ্ধতি তাদের ব্যবসার ক্ষতি করছে। তারা দাবি করেছেন, আদালতের রায় আসা পর্যন্ত পুনরায় ডিলারদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।

রাজধানীতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের এই পদক্ষেপ বিশেষভাবে প্রশংসনীয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরাসরি বিতরণ ব্যবস্থা চালু থাকলে দারিদ্র্য সীমিত হবে এবং খাদ্যপণ্যের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *