লাভলী আক্তার:
নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বিলকাউসী গ্রামে স্বপন মিয়া (সফি) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তার দাপটে গ্রামের সাধারণ ও নিরীহ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
অভিযুক্ত স্বপন মিয়া (সফি) মৃত মাহতাব উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার, বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে স্বপন মিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ একই গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমানের ছেলের ফার্মেসি ও দোকানে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দোকানে থাকা নগদ অর্থ লুটপাট এবং ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর ঢাকায় প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে এলাকাবাসী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মোঃ মিজানুর রহমান ও স্বপন মিয়া গংদের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে তিন দফা ডিক্রি মিজানুর রহমানের পক্ষে যায় এবং বর্তমানে জমিটি তার দখলেই রয়েছে।
এর আগে গ্রামবাসীর উদ্যোগে উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিক গ্রাম্য সালিশ বৈঠক বসে এবং আপাত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ধারণা, সেই বিরোধের জের ধরেই সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী মোঃ মিজানুর রহমানের ছেলে, যিনি পেশায় সাংবাদিক, বলেন, “আমি একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচন করেছি, আর স্বপন মিয়া অন্য দলের পক্ষে ছিল। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে প্রতিহিংসা তৈরি হয়। এরই জেরে আমার দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, নগদ টাকাসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমানে পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় মোঃ মিজানুর রহমানের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।