স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর পূর্ব বাড্ডা এলাকায় শাহাবুদ্দিন মোড় কবরস্থান রোডের দাগ নং ১৮৬১ এলাকায় অবৈধভাবে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জোন-৪/১ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজউক ইমারত পরিদর্শক মোঃ সোহাগ নিয়মিত নজরদারি না করে নির্মাণ কাজকে উৎসাহ দিচ্ছেন। ফলে এলাকায় আইন অমান্য করে উচ্চতর ও অনুমোদনবিহীন নির্মাণ কাজ চলছে।
স্থানীয়রা জানায়, কেবলমাত্র মূল অনুমোদিত প্ল্যান অনুযায়ী নয়, বরং অনুমোদনের চেয়ে অনেক উঁচু ও বিশাল এই ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, চারপাশের বাড়িঘর ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিসাধন করা হচ্ছে। “আমরা বারবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু রাজউকের দৃষ্টি কেবলমাত্র ভাড়া বা ঘুষের মাধ্যমে কাজ করছে বলে মনে হয়। বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ শূন্য,” বলেন এলাকার বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদেরও অভিযোগ, ভবন নির্মাণের কারণে রাস্তার নিরাপত্তা, পার্কিং ব্যবস্থা ও নিকাশী ব্যবস্থার উপর প্রভাব পড়েছে। “সাধারণ মানুষ চলাচলে সমস্যায় পড়ছে। জলাবদ্ধতা এবং সড়ক জট সমস্যা আরও বেড়ে গেছে। আমরা চেয়েছিলাম স্থানীয় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিক, কিন্তু প্রতিদিনই নতুন দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধ কাজ চলছে,” বলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী হেলাল।
অবৈধ নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে জোন-৪/১ এর ইমারত পরিদর্শক মোঃ সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, অনেক সময়ই রাজউক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে উদাসীন থাকে এবং স্থানীয় প্রভাবশালী বা দালালদের মাধ্যমে নির্মাণকারীদের সহায়তা দেয়। ফলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ কার্যকরভাবে বিবেচনা করা হয় না।
রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ভবন নির্মাণের আগে জমি, প্ল্যান ও স্থাপত্য অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে শেষ করা আবশ্যক। কিন্তু এই এলাকায় নির্মিত ভবনটির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, অনুমোদন ছাড়াই মাটির কাজ, ভিত্তি স্থাপন এবং বেশ কিছু তলাসম্পন্ন কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় আইনজীবী ও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এই ধরনের উদাসীন নজরদারি ও দায়িত্বহীনতা ভবন নিরাপত্তা, পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বাসিন্দারা আরও জানান, এই ধরনের অবৈধ নির্মাণের ফলে এলাকা অপ্রতুল হয়রানিমূলক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। “যদি কেউ সরকারি নিয়ম না মানে, আর রাজউক কর্মকর্তা দায়িত্বশীল না হন, তবে সাধারণ মানুষ ও পরিবেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়,” বলেন স্থানীয় শিক্ষক সেলিমা খান।
স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনা সত্ত্বেও, পর্যবেক্ষক ও দালাল চক্রের কারণে নির্মাণ কাজ থেমে নেই। স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকারিভাবে তৎপর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে অবৈধ নির্মাণ বন্ধ হয় এবং রাজউক প্রকৃত দায়িত্ব পালন করে। তারা আরও দাবি করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পরিদর্শন করা আবশ্যক।
পূর্ব বাড্ডা শাহাবুদ্দিন মোড় কবরস্থান রোডের এই অবৈধ ভবন নির্মাণ কেবল স্থানীয়দের জন্য নয়, শহরের নাগরিক নিরাপত্তা ও নগর পরিকল্পনার জন্যও একটি বড় সতর্কতা। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, রাজউকের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও আইন প্রয়োগ না থাকলে শহরের অবৈধ নির্মাণ কার্যক্রম আরও বেড়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষ সবশেষে সমস্যার সম্মুখীন হবে।