মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক অটোরিকশা চালককে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সুজন মিয়া (৩৩), মো. শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯), মো. দুলাল মিয়া (৪৫), মো. আব্দুর রহিম মিয়া (৫৫) ও মো. আবুল কাশেম (৪০)।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহেল। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার নাক, মুখ ও হাতে স্কচটেপ পেঁচানো ছিল।
এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পিবিআই আরও জানায়, সুজন ও হীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সোহেলকে নিশানা করে। ১৯ জানুয়ারি বিকেলে তারা নানাখী বাজার থেকে আনন্দবাজার যাওয়ার কথা বলে সোহেলের অটোরিকশা ভাড়া করে। পথিমধ্যে একটি দোকানে বসে পানীয়ের সঙ্গে কাশির সিরাপ মিশিয়ে কৌশলে তাকে পান করানো হয়।
পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে মুছারচরের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে সোহেলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর অটোরিকশাটি রূপগঞ্জের একটি গ্যারেজে রাখা হয় এবং পরদিন তা বিক্রি করে দেওয়া হয়। তদন্তে আরও জানা গেছে, দুলাল মিয়া, আব্দুর রহিম ও আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইকৃত ও চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তাদের হেফাজত থেকেই নিহত সোহেলের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন ও হীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অপর তিনজন চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।